দক্ষিণ বনাম উত্তর! আসন বৃদ্ধি ও নারী সংরক্ষণ ইস্যুতে দিল্লি ঘেরাওয়ের ছক বিরোধীদের

নারী সংরক্ষণ বিলের রূপায়ণ এবং লোকসভার আসন সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্র-বিরোধী সংঘাত চরমে পৌঁছাল। ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকেছে মোদী সরকার। ঠিক তার আগে, বুধবার বিকেল ৩টেয় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের ১০ রাজাজি মার্গের বাসভবনে জরুরি বৈঠকে বসছে ‘ইন্ডিয়া’ ব্লকের শীর্ষ নেতৃত্ব। লক্ষ্য—নারী সংরক্ষণের আড়ালে সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন নিয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা।
বিরোধীদের প্রধান অভিযোগ, সরকার তড়িঘড়ি বিলের খসড়া ধরিয়ে দিয়ে সাংসদদের প্রস্তুতির সময় দিচ্ছে না। বিরোধীদের দাবি, সরকার গণতন্ত্রকে স্রেফ ‘রাবার স্ট্যাম্প’ বানাতে চাইছে। তাদের মতে, পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনের আগে মহিলা ভোট টানতেই এই কৌশল নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সবচেয়ে বড় আপত্তির জায়গা হলো আসন বৃদ্ধির সূত্র। বিরোধীদের হিসেবে, উত্তরপ্রদেশ বা মধ্যপ্রদেশের মতো গোবলয়ের রাজ্যগুলোতে যে হারে আসন বাড়বে, তার তুলনায় পশ্চিমবঙ্গ, কেরল বা তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যগুলো পিছিয়ে পড়বে। এতে দক্ষিণ ও পূর্ব ভারতের রাজনৈতিক গুরুত্ব কমে গিয়ে দেশে বড়সড় আঞ্চলিক বৈষম্য তৈরি হবে বলে আশঙ্কা বিরোধী শিবিরের।
এছাড়া ওবিসি (OBC) কোটা নিয়েও সরব হয়েছে কংগ্রেস ও সহযোগী দলগুলো। তাদের প্রশ্ন, কেন ২০১১-র ডিলিমিটেশনের বদলে নতুন জাতিগত আদমশুমারি করে ২০২৯-এ এই বিল কার্যকর করা হচ্ছে না? হঠাৎ ৩০ মাসের মধ্যে কী এমন ঘটল যে মোদী সরকার নিজেদের পুরনো আইন বদলাতে মরিয়া? যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়ে কংগ্রেসের স্নায়ুযুদ্ধ চলছে, তবুও সুত্রের খবর, মমতার দল এই ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধেই অবস্থান নেবে। এখন দেখার, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকা সত্ত্বেও সরকার কীভাবে এই বিল পাশ করায়, নাকি বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ চাপে পিছু হটে।