ইতালির সাহসী সিদ্ধান্ত: ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্থগিত করলেন মেলোনি!

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধ এবং লেবানন সীমান্তে বাড়তে থাকা উত্তেজনার আবহে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিলেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তিটি সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী মেলোনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, গাজা ও লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই সামরিক চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করা কেবল অনুচিতই নয়, বরং অনৈতিক। ইতালির শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিকদের মতে, লেবাননে রাষ্ট্রপুঞ্জের (UN) শান্তিরক্ষী বাহিনীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার পর ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বজায় রাখা রাজনৈতিকভাবে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উল্লেখ্য, এই প্রতিরক্ষা চুক্তিটি ২০০৬ সালে স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যা প্রতি পাঁচ বছর অন্তর স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন (Renew) করা হতো। এই চুক্তির মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্প, সামরিক প্রশিক্ষণ, কৌশলগত শিক্ষা এবং উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দুই দেশ একে অপরকে সহযোগিতা করে আসছিল। কিন্তু সম্প্রতি লেবাননে রাষ্ট্রপুঞ্জের শান্তিরক্ষীদের একটি কনভয় লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিবর্ষণের অভিযোগ ওঠার পরেই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটে। ইতালি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে।

ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি কঠোর ভাষায় জানিয়েছেন যে, নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিক এবং আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা মিশনে থাকা সেনাদের ওপর হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। কূটনৈতিক এই টানাপোড়েন আরও তীব্র হয় যখন ইসরায়েল ইতালীয় রাষ্ট্রদূতকে তলব করে। এর প্রতিক্রিয়ায় তাজানি অবিলম্বে বৈরুত সফর করেন এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দেশটির প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন। এছাড়া, মেলোনি হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, যা বিশ্বের তেল ও সার সরবরাহের প্রধান পথ। ইতালির এই কঠোর অবস্থান এটাই প্রমাণ করে যে, আন্তর্জাতিক শান্তি ও মানবাধিকারের প্রশ্নে তারা আপস করতে নারাজ।