পাহাড়ে ভোটের আগেই রক্তক্ষয়ী সংঘাত! কার্শিয়াংয়ে আইজিজেএফ প্রার্থী বন্দনা রাইয়ের ওপর প্রাণঘাতী হামলা

ভোট যত এগিয়ে আসছে, পাহাড়ের শান্ত পরিবেশ ততই তপ্ত হয়ে উঠছে। মঙ্গলবার কার্শিয়াংয়ের বালাসন এলাকায় নির্বাচনী প্রচার চলাকালীন আক্রান্ত হলেন ইন্ডিয়ান গোর্খা জনশক্তি ফ্রন্ট (IGJF)-এর প্রার্থী বন্দনা রাই। অভিযোগের তির সরাসরি অনীত থাপার দল ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা বা বিজিপিএম-এর দিকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কার্শিয়াংজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
কী ঘটেছিল মঙ্গলবার সকালে?
মঙ্গলবার সকালে দলীয় কর্মীদের নিয়ে বালাসন এলাকায় জনসংযোগে বেরিয়েছিলেন আইজিজেএফ প্রার্থী বন্দনা রাই।
-
অতর্কিত হামলা: অভিযোগ, প্রচার চলাকালীন একদল দুষ্কৃতী আচমকাই তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
-
ধারালো অস্ত্র: প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলাকারীদের হাতে ধারালো অস্ত্র ছিল এবং বন্দনা রাইকে লক্ষ্য করে সরাসরি আঘাত করার চেষ্টা করা হয়।
-
রক্ষা পেলেন কীভাবে: নিরাপত্তারক্ষী ও দলীয় কর্মীদের তৎপরতায় বড়সড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হলেও এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ঘটনার পরেই তিনি কার্শিয়াং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
শাসকদলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক বন্দনা রাই
ঘটনার পর ক্ষোভ উগরে দিয়ে বন্দনা রাই বলেন:
“পাহাড়ে আইজিজেএফ-এর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা দেখে বিজিপিএম ভয় পেয়েছে। তাই তারা গায়ের জোরে আমাদের দমানোর চেষ্টা করছে। এই কাপুরুষোচিত হামলা তারই প্রমাণ।”
অভিযোগ ওড়ালেন অনীত থাপা
যদিও বিজিপিএম প্রধান অনীত থাপা এই ঘটনার সঙ্গে তাঁর দলের কোনো যোগ থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি পাল্ট দাবি করেছেন: “পাহাড়ের শান্তি বিঘ্নিত করার কোনো উদ্দেশ্য আমাদের নেই। আমরা চাই পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের গ্রেফতার করুক।”
পাহাড়ে ত্রিমুখী লড়াই ও অশান্তির মেঘ
আগামী ২৩ এপ্রিল কার্শিয়াং-সহ উত্তরবঙ্গের একাংশে ভোট গ্রহণ। এই আসনে লড়াই মূলত তিনটি শিবিরের মধ্যে: ১. বিজিপিএম (তৃণমূল সমর্থিত) ২. বিজেপি (গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা সমর্থিত) ৩. আইজিজেএফ (অজয় এডওয়ার্ডসের নেতৃত্বাধীন)
হিংসার আবহে আতঙ্ক: কয়েক দিন আগেই রেলিং এলাকায় বিজিপিএম কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছিল। এবার খোদ প্রার্থী আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় পাহাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। ভোটের দিন যত এগিয়ে আসবে, রাজনৈতিক সংঘর্ষের মাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।