ইসরায়েলকে বড় ধাক্কা দিল ইতালি! যুদ্ধের মাঝেই বন্ধুত্বের ‘অটো-রিনিউয়াল’ বন্ধ করলেন মেলোনি

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংঘাতের আঁচ এবার সরাসরি এসে পড়ল ইউরোপীয় কূটনীতিতে। ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিও মেলোনি এক অভাবনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী মনোভাব নিয়ে সরব হয়েছেন ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস।
ইসরায়েলকে মেলোনির কড়া বার্তা
ইতালির ডানপন্থী সরকার ইউরোপে ইসরায়েলের অন্যতম কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত হলেও, লেবাননে সাম্প্রতিক হামলা সেই সম্পর্কে ফাটল ধরিয়েছে। বিশেষ করে লেবাননে মোতায়েন জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীতে থাকা ইতালীয় সেনাদের ওপর ইসরায়েলি হামলার ঘটনাটি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না রোম।
উত্তর ইতালির ভেরোনায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মেলোনি সাফ জানিয়ে দেন, “বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির স্বয়ংক্রিয় নবায়ন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।” এটি ইসরায়েলের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ট্রাম্পের ওপর ক্ষুব্ধ ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী
এদিকে আটলান্টিকের ওপারেও বইছে উত্তেজনার হাওয়া। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের উস্কানি দেওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনা করেছেন ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস। ওয়াশিংটনে আইএমএফ (IMF) বৈঠকে যোগ দেওয়ার প্রাক্কালে তিনি ট্রাম্পের আচরণকে “অবিবেচনাপ্রসূত” বলে আখ্যা দিয়েছেন।
একটি সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রিভস বলেন, “এই যুদ্ধ আমরা শুরু করিনি এবং আমরা এটা চাইও না।” তিনি অভিযোগ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র কোনো সুস্পষ্ট ‘প্রস্থান পরিকল্পনা’ (Exit Plan) ছাড়াই এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছে। রিভসের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন শেষ পর্যন্ত কী অর্জন করতে চায়, সে বিষয়ে তাদের নিজেদের মধ্যেই কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই।
অর্থনৈতিক সংকটের শঙ্কা
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে রিভস অন্যতম, যিনি মধ্যপ্রাচ্যে মিত্রদের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রকাশ্যে নিজের হতাশা প্রকাশ করলেন। ব্রিটেনের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার লড়াই চালিয়ে যাওয়া রিভস মনে করেন, এই অপরিকল্পিত যুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে।