সাঁওতাল পরগনার ‘স্বাস্থ্য রাজধানী’র কঙ্কালসার দশা! ৩টে বাজলেই বন্ধ ল্যাব, বিনা চিকিৎসায় ফিরছেন রোগীরা!

যে জেলাকে সাঁওতাল পরগনার ‘স্বাস্থ্য রাজধানী’ বলা হয়, সেই দেওঘরের সদর হাসপাতালেই এখন চিকিৎসার বদলে জুটছে চরম ভোগান্তি। রাজ্য সরকার ও জেলা প্রশাসন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা মজবুত করার দাবি করলেও, বাস্তব চিত্র বলছে দেওঘরের স্বাস্থ্য পরিষেবা এখন কার্যত ‘রাম ভরোসে’। হাসপাতাল চত্বরে থাকা ল্যাবরেটরির গেটে তালা ঝুলে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ।
৩টে বাজলেই ‘সব শেষ’! দূর-দূরান্তের রোগীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ
আগে পাবলিক-প্রাইভेट পার্টনারশিপ (PPP) মোডের অধীনে সদর হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা ল্যাবরেটরি পরিষেবা পাওয়া যেত। কিন্তু গত ৩১ মার্চ সেই টেন্ডারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকেই ল্যাবটি বন্ধ রয়েছে। এখন রোগীদের একমাত্র ভরসা ডিস্ট্রিক্ট পাবলিক হেলথ ল্যাবরেটরি (DPHL)। কিন্তু সেখানে দুপুর ৩টের পর আর কোনো পরীক্ষা করা হয় না।
এর ফলে জামতাড়া, মধুপুর এবং বিভিন্ন প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে আসা রোগীরা পড়ছেন মহা বিপদে। ডাক্তাররা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ল্যাব রিপোর্ট না দেখলে চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব নয়। ফলে রিপোর্ট করাতে না পেরে বিনা চিকিৎসায় ফিরতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
“ডাক্তার ওষুধ দিচ্ছেন না, ল্যাব রক্ত নিচ্ছে না”
অফ-ক্যামেরা এক ভুক্তভোগী রোগী জানান:
“জোর করে আমাদের রিপোর্ট আনতে পাঠানো হচ্ছে, কিন্তু ৩টে বেজে যাওয়ায় ল্যাব বন্ধ। ডাক্তার বলছেন রিপোর্ট ছাড়া ওষুধ দেওয়া অসম্ভব। আমরা এখন কোথায় যাব?”
কেন এই অচলাবস্থা? কী বলছে কর্তৃপক্ষ?
সদর হাসপাতালের ল্যাব আধিকারিক মনোজ মিশ্র স্বীকার করেছেন যে, কর্মীর অভাবে দেরি করে আসা রোগীদের পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাঁর বয়ান অনুযায়ী:
-
কর্মী সঙ্কট: PPP মোড বন্ধ হওয়ায় কর্মীর ঘাটতি প্রকট হয়েছে।
-
আলোচনা জারি: ল্যাবটি পুনরায় চালু করার জন্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সাথে কথাবার্তা চলছে।
-
আশ্বাস: খুব শীঘ্রই পরিষেবা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে দূর-দূরান্তের রোগীদের হয়রানি বন্ধ হয়।
উপসংহার
একদিকে দেবভূমি দেওঘরে আধুনিক চিকিৎসার স্বপ্ন দেখানো হচ্ছে, অন্যদিকে সদর হাসপাতালের এই ন্যুব্জ দশা প্রশাসনের আন্তরিকতা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। ‘স্বাস্থ্য রাজধানী’ তকমা কি তবে কেবল নামেই থেকে যাবে? দেওঘরের সাধারণ মানুষ এখন সেই উত্তরের অপেক্ষায়।