আমেরিকার নৌ-অবরোধ ভেঙে দিল চিনা জাহাজ! পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের সিঁদুরে মেঘ, ট্রাম্পকে কড়া হুঁশিয়ারি জিনপিংয়ের

পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক সক্রিয়তা নিয়ে এবার সুর চড়ালো চিন। মঙ্গলবার বেজিংয়ের তরফে সাফ জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে আমেরিকার এই ‘নৌ-অবরোধ’ ওই অঞ্চলের শান্তি ও ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে পুরোপুরি ধূলিসাৎ করে দিতে পারে। চিনের আশঙ্কা, ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপ উত্তেজনার আগুনে ঘি ঢালবে।
ট্রাম্পের অবরোধ ভাঙল চিনা জাহাজ!
ইরানকে কোণঠাসা করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশের পরেই হরমুজ প্রণালীতে কড়া পাহারা বসিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। কিন্তু সেই অবরোধকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এগিয়ে গেল চিনা মালিকানাধীন জাহাজ ‘রিচ স্টারি’। সিএনএন-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, মালাউই-র পতাকাবাহী এই জাহাজটি সোমবার রাতে মার্কিন নজরদারি এড়িয়ে সফলভাবে প্রণালী পার করে। উল্লেখ্য, এই জাহাজটি ২০২৩ সাল থেকেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে।
শি জিনপিংয়ের ‘পিস প্লান’
যখন পশ্চিম এশিয়া রণক্ষেত্রের রূপ নিচ্ছে, ঠিক তখনই আবু ধাবির ক্রাউন প্রিন্সের সাথে বৈঠকে এক চার-দফা শান্তি প্রস্তাব পেশ করেছেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তাঁর প্রস্তাবের মূল ভিত্তি হলো:
-
দেশগুলির সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানানো।
-
আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা।
-
শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান।
-
উন্নয়ন ও নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা।
হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধের প্রস্তুতি?
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বর্তমানে ওই অঞ্চলে অন্তত ১৫টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে রেখেছে। যার মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন এবং ১১টি বিধ্বংসী ডেস্ট্রয়ার। ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের বন্দরগুলিতে সামুদ্রিক অবরোধ কার্যকর করতে এই বিশাল নৌ-বহর যেকোনো মুহূর্তে সক্রিয় হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মত: চিনা মুখপাত্র গুও জিয়াকুন সরাসরি জানিয়েছেন, আমেরিকা যদি সামরিক অভিযান না থামায়, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। পাকিস্তানের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্পের এই কড়া অবস্থান বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।
উপসংহার: আমেরিকার পেশিবল বনাম চিনের কূটনীতি— পশ্চিম এশিয়ার এই লড়াই এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা বিশ্ব। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দামে যে আগুন লাগবে, তার প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের পকেটেও।