মেহমান ডেকে বিল মেটাতে পারল না পাকিস্তান! যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকে ইসলামাবাদে যা ঘটল, জানলে হাসবেন না কাঁদবেন?

একেই বলে ‘নুন আনতে পান্তা ফুরায়’। বিশ্বের দুই শক্তিশালী দেশ—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক মধ্যস্থতা করতে গিয়ে নিজেদের কঙ্কালসার অর্থনৈতিক দশা বিশ্বের সামনে প্রকাশ করে ফেলল পাকিস্তান। ২০২৬ সালের ১০ থেকে ১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে আয়োজিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এখন কূটনৈতিক সাফল্যের চেয়েও বেশি আলোচনা হচ্ছে পাকিস্তানের ‘শূন্য পকেট’ নিয়ে।

বিলাসবহুল হোটেলে বেইজ্জতি!

সূত্র মারফত জানা গেছে, আলোচনার জন্য নির্ধারিত ইসলামাবাদের অন্যতম বিলাসবহুল সেরেনা হোটেলের বিল পর্যন্ত পরিশোধ করতে পারেনি পাকিস্তান সরকার। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক ছিল যে, শেষ পর্যন্ত হোটেলের মালিককেই (আগা খান ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত) নিজের পকেট থেকে সমস্ত টাকা মেটাতে হয়েছে! যে অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল পাকিস্তানের কূটনৈতিক শক্তির প্রদর্শনী, তা এখন পরিণত হয়েছে চরম জাতীয় লজ্জায়।

কূটনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা বনাম অর্থনৈতিক বাস্তবতা

পাকিস্তান সরকার চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দীর্ঘদিনের বিরোধ মেটানোর মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেদের বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করতে। কিন্তু হোটেলের সামান্য বিল মেটাতে না পারায় তাদের সেই প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক দুর্বলতা আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি:

“একটি বড় আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে এই ধরনের মৌলিক ব্যর্থতা প্রমাণ করে যে, পাকিস্তান সরকার এখন এতটাই দেউলিয়া যে তারা ছোটখাটো বিলও মেটাতে অক্ষম।”

বর্তমানে পাকিস্তান আইএমএফ (IMF)-এর কঠোর নজরদারিতে রয়েছে এবং দেশে মুদ্রাস্ফীতির হার আকাশচুম্বী। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের সামনে মাথা উঁচু করতে গিয়ে কার্যত মুখ থুবড়ে পড়ল ইসলামাবাদ।

আবারও কি বসবে আলোচনার আসর?

এত বড় কেলেঙ্কারির পরেও অবশ্য কূটনৈতিক আলোচনা থেমে নেই। রয়টার্স সূত্রে খবর, যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের ওপর মার্কিন অবরোধ নিয়ে আলোচনা করতে চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে আবারও ইসলামাবাদে ফিরতে পারে ওয়াশিংটন ও তেহরানের প্রতিনিধি দল। ১৯৭৯ সালের পর এটিই ছিল দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক, যদিও গত সপ্তাহের আলোচনায় কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।

ইরানের এক শীর্ষ সূত্র জানিয়েছে, আগামী শুক্রবার থেকে রোববারের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় বৈঠক হতে পারে। তবে প্রশ্ন উঠছে, এবারের হোটেলের বিল কি পাকিস্তান মেটাতে পারবে, নাকি আবারও কোনো দাতা সংস্থার দিকে হাত পাততে হবে?