রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা শেষ! সুখোই যুদ্ধবিমানে এবার দেশীয় ‘ব্রহ্মাণ্ড’ অস্ত্র, মেগা প্ল্যান ভারতীয় বায়ুসেনার

বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে বড় শিক্ষা নিল ভারত। বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এবার আকাশপথের সুরক্ষায় ‘আত্মনির্ভর’ হওয়ার পথে বড় পদক্ষেপ নিল ভারতীয় বায়ুসেনা (IAF)। বায়ুসেনার তুরুপের তাস ‘সুখোই-৩০’ (Sukhoi-30 MKI) যুদ্ধবিমানের জন্য এবার সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি মিসাইল লঞ্চার ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
কেন রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমাতে চাইছে বায়ুসেনা?
বর্তমানে সুখোই যুদ্ধবিমানে অস্ত্র মোতায়েনের জন্য রাশিয়ার তৈরি ‘অরিজিনাল ইকুইপমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার’ (OEM) লঞ্চার ব্যবহার করা হয়। কিন্তু সমস্যা হলো, একেক ধরনের মিসাইলের জন্য একেক রকম লঞ্চার ব্যবহার করতে হয়। যুদ্ধের জরুরি পরিস্থিতিতে বারবার এই লঞ্চার পরিবর্তন করতে গিয়ে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। এই সমস্যা মেটাতেই এবার ভারতীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের কাছে ‘ইউনিভার্সাল’ বা অভিন্ন লঞ্চার তৈরির দাবি জানিয়েছে বায়ুসেনা।
বায়ুসেনার নতুন ‘রোডম্যাপ’-এ কী রয়েছে?
-
অভিন্ন লঞ্চার: এমন এক প্রযুক্তি তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে লঞ্চার না পাল্টেই আকাশ থেকে আকাশ (Air-to-Air) এবং আকাশ থেকে ভূমি (Air-to-Surface)— সব ধরণের মিসাইল ছোঁড়া যাবে।
-
পরবর্তী প্রজন্মের অস্ত্র: দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি নির্ভুল নিশানার (Precision-guided) যুদ্ধাস্ত্র সুখোইয়ে যুক্ত করা হবে, যা বহুদূর থেকে শত্রুর কৌশলগত ঘাঁটি ধ্বংস করতে সক্ষম।
-
সুখোই-এর সংস্কার: ইতিমধ্যেই ৮৪টি সুখোই যুদ্ধবিমানের রাডার, ইঞ্জিন এবং অ্যাভিওনিক্স উন্নত করার কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া আরও ১২টি নতুন সুখোই কেনার অনুমোদন মিলেছে।
অপ্রতিদ্বন্দ্বী ‘সুখোই-ব্রহ্মোস’ জুটি
ভারতীয় বায়ুসেনার অস্ত্রভাণ্ডারে সুখোই-৩০ হলো একমাত্র যুদ্ধবিমান যা বিশ্বের দ্রুততম সুপারসনিক মিসাইল ‘ব্রহ্মোস’ বহন করতে পারে। এবার দেশীয় লঞ্চার ও মিসাইল যুক্ত হলে এই যুদ্ধবিমানের মারণ ক্ষমতা কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। এর ফলে বিদেশি যন্ত্রাংশের জন্য আর অন্য কোনো দেশের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে না ভারতকে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ কেবল বায়ুসেনার শক্তিই বাড়াবে না, বরং আন্তর্জাতিক অস্ত্র বাজারে ভারতের দাপটকেও আরও মজবুত করবে।