মণিপুরে বাঙালি জওয়ানের মৃত্যুতে তোলপাড়! মোদী-শাহকে চরম আক্রমণ অভিষেকের, বাংলায় শোরগোল!

বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের পারদ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই মণিপুর ইস্যু তুলে বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি মণিপুরে কর্তব্যরত অবস্থায় মালদহের এক বিএসএফ (BSF) জওয়ানের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সরাসরি তোপ দেগেছেন তিনি।
শহিদ জওয়ানের পরিবারে শোকের ছায়া: মণিপুরের উখরুল জেলায় কর্মরত ছিলেন মালদহের মোথাবাড়ি থানার উত্তর লক্ষ্মীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ভাগজানটোলা এলাকার বাসিন্দা মিঠুন মণ্ডল (৩৪)। গত ৯ বছর ধরে বিএসএফ-এর ১৭০তম ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন তিনি। শুক্রবার ডিউটি চলাকালীন আচমকা জঙ্গিদের গুলিতে শহিদ হন এই বীর জওয়ান। তাঁর মৃত্যুতে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারে রয়েছেন বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী এবং দুই নাবালক সন্তান। উল্লেখ্য, এই পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী ছিলেন মিঠুনই।
মোদী-শাহকে অভিষেকের ‘এক্স’ খোঁচা: এই মর্মান্তিক ঘটনার পরেই এক্স হ্যান্ডেলে (প্রাক্তন টুইটার) সরব হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লেখেন, “মালদা জেলার এক সাহসী বাঙালি বিএসএফ জওয়ান জঙ্গিদের গুলিতে শহীদ হয়েছেন। যারা বাংলাকে ‘পরিবর্তন’ নিয়ে বড় বড় বুলি শোনান, তাঁদের উচিত সবার আগে মণিপুরের পরিস্থিতির দিকে দৃষ্টি ফেরানো।”
বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বকে বিঁধে অভিষেক আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী—উভয়েরই বাংলায় নির্বাচনী প্রচার চালানোর জন্য অফুরন্ত সময় রয়েছে; অথচ গত তিন বছর ধরে চলা মণিপুরের জাতিগত সহিংসতার স্থায়ী সমাধান খোঁজার জন্য তাঁদের হাতে এক মিনিট সময়ও নেই। এই সহিংসতায় ৩০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। বাংলায় এসে ‘পাল্টানো দরকার’ বলে চিৎকার করার আগে, আপনাদেরই ‘অষ্টলক্ষ্মী’ রাজ্যের সেই অসহায় মানুষদের জন্য অর্থবহ কিছু একটা করে দেখান।”
নির্বাচনী আবহে এক বাঙালি জওয়ানের এই আত্মত্যাগ এবং মণিপুর ইস্যুতে অভিষেকের এই আক্রমণ বিজেপিকে যথেষ্ট অস্বস্তিতে ফেলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যেখানে বিজেপি বাংলায় সুশাসন ও পরিবর্তনের কথা বলছে, সেখানে মণিপুরের পরিস্থিতি নিয়ে তৃণমূলের এই পাল্টা আক্রমণ নির্বাচনী লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলল।