তরমুজ কিনলেই পস্তাতে হবে না! লাল টকটকে আর মিষ্টি ফল চেনার ৫টি গোপন ট্রিকস জেনে নি

বৈশাখের এই কাঠফাটা রোদে এক ফালি ঠান্ডা তরমুজ যেন স্বর্গসুখ! কিন্তু অনেক সময় বাজার থেকে দেখে-শুনে বড় তরমুজ বাড়িতে এনে কাটার পর দেখা যায় তা ভেতরে ফ্যাকাশে বা পানসে। আপনার টাকা যেন জলে না যায়, তার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে ফল বিক্রেতা— সবাই কিছু বিশেষ কৌশলের কথা বলছেন। লাল টকটকে এবং প্রাকৃতিকভাবে মিষ্টি তরমুজ চেনার সেরা ৫টি টিপস রইল আপনার জন্য:
১. হলদেটে দাগ বা ফিল্ড স্পট (Field Spot): তরমুজের নিচের দিকে যেখানে মাটিতে লেগে থাকে, সেই অংশে যদি গাঢ় হলুদ বা কমলাটে দাগ থাকে, তবে বুঝবেন সেটি লতায় থাকা অবস্থাতেই পেকেছে। যদি সেই দাগ সাদাটে হয়, তবে সেটি না কেনাই ভালো, কারণ তা কাঁচা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
২. মাকড়সার জালের মতো দাগ (Webbing): তরমুজের গায়ে খসখসে বাদামি রঙের জালের মতো দাগ দেখছেন? ভয়ের কিছু নেই! এই দাগ মানেই হলো মৌমাছিরা সেটিকে বেশি পরাগায়ন করেছে। যত বেশি এমন ‘জাল’ থাকবে, তরমুজ তত বেশি মিষ্টি হবে।
৩. ওজনে ভারী ও ফাঁপা শব্দ: আকারে খুব বড় হওয়ার চেয়ে ওজনে ভারী তরমুজ বেছে নিন। তরমুজের গায়ে টোকা দিন; যদি গভীর এবং ফাঁপা (Hollow) শব্দ আসে, তবে সেটি রসালো ও পাকা। পানসে তরমুজে থ্যাপথ্যাপে শব্দ হয়।
৪. চকচকে নয়, নিস্তেজ খোসা: আমরা অনেকেই উজ্জ্বল এবং চকচকে তরমুজ কিনি। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাকা তরমুজের খোসা সাধারণত ম্যাট বা কিছুটা ম্লান (Dull) রঙের হয়। অতিরিক্ত উজ্জ্বল মানে সেটি এখনও পুরোপুরি পাকেনি।
৫. শুকনো ডাঁটা: তরমুজের বোঁটা বা ডাঁটাটি লক্ষ্য করুন। যদি সেটি একদম শুকনো এবং বাদামি রঙের হয়, তবে বুঝবেন এটি পরিপক্ক। সবুজ টাটকা ডাঁটা মানে সেটি সময়ের আগেই গাছ থেকে কাটা হয়েছে।
বিষ খাচ্ছেন না তো? (রাসায়নিক সতর্কতা): যদি দেখেন পুরো তরমুজটি সমানভাবে হলুদ এবং অতিরিক্ত চকচকে, তবে সাবধান! কৃত্রিমভাবে পাকানোর জন্য এতে রাসায়নিক ব্যবহৃত হতে পারে। একদম নিখুঁত গোল তরমুজের চেয়ে কিছুটা অসম বা ওভাল শেপের ভারী তরমুজ কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ।
এই গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে সঠিক ফলটি বেছে নিন আর পরিবারকে রাখুন সুস্থ!