১৩ বছর পর জেলমুক্তি সুদীপ্ত সেনের! সারদা-কর্তার জামিনে কি এবার বদলে যাবে চিটফান্ড মামলার মোড়?

বাংলার ইতিহাসের অন্যতম বড় আর্থিক কেলেঙ্কারি ‘সারদা’ মামলার মূল চক্রী সুদীপ্ত সেনের জেলবাসের অবসান হতে চলেছে। দীর্ঘ ১৩ বছর পর কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশে শর্তসাপেক্ষে জামিন পেলেন তিনি। বিচারপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘ বিলম্ব এবং সুদীপ্ত সেনের আশঙ্কাজনক শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করেই আদালত এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কেন এই জেলমুক্তি? সুদীপ্ত সেনের বিরুদ্ধে থাকা মোট ৩৮৯টি মামলার মধ্যে ৩৮৭টিতে তিনি আগেই জামিন পেয়েছিলেন। বাকি থাকা শেষ দুটি মামলায় আজ জামিন মঞ্জুর করল হাইকোর্ট। ৬৪ বছর বয়সী সেন বর্তমানে একাধিক বার্ধক্যজনিত রোগে আক্রান্ত, এমনকি সম্প্রতি তিনি ব্রেন স্ট্রোকেও আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাঁর আইনজীবী আদালতে জানান, বিচার চলাকালীন সুদীপ্ত সেন কোনোভাবেই তদন্তে বাধা দেননি, তাই তাঁকে আটকে রাখার যৌক্তিকতা নেই।
যে ৭টি কড়া শর্তে মিলল মুক্তি: জেল থেকে বেরোলেও সুদীপ্ত সেনের ওপর থাকছে প্রশাসনের কড়া নজরদারি। আদালতের বেঁধে দেওয়া শর্তগুলো হলো:
-
৫ হাজার টাকার বন্ড ও দুজন জামিনদার দিতে হবে।
-
নিজের পাসপোর্ট আদালতে জমা রাখতে হবে।
-
আদালতের অনুমতি ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের বাইরে যেতে পারবেন না।
-
বর্তমান ঠিকানার বদল করলে পুলিশ ও আদালতকে জানাতে হবে।
-
কোনো ধরণের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন না।
-
সাক্ষী বা অভিযোগকারীদের কোনোভাবে প্রভাবিত করা যাবে না।
-
মামলার প্রতিটি শুনানিতে সশরীরে হাজিরা দিতে হবে।
বিনিয়োগকারীদের ভাগ্যে কী? রাজ্য সরকার সুদীপ্ত সেনের মুক্তির বিরোধিতা করে দাবি করেছিল, সারদা গোষ্ঠী লক্ষ লক্ষ মানুষের সঞ্চয় আত্মসাৎ করেছে। তবে দীর্ঘ প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ার বিষয়টিকে আদালত গুরুত্ব দিয়েছে। ১৩ বছর পর সুদীপ্ত সেন মুক্তি পেলেও কয়েক লক্ষ আমানতকারী তাঁদের খোয়া যাওয়া টাকা কবে ফিরে পাবেন, সেই প্রশ্নটা আজও অমীমাংসিতই থেকে গেল।
সারদা কেলেঙ্কারির এই অধ্যায় কি সুদীপ্ত সেনের মুক্তির সাথে সাথেই স্তিমিত হয়ে যাবে, নাকি তদন্তে নতুন কোনো তথ্য উঠে আসবে— এখন সেদিকেই নজর রাজ্যবাসীর।