ধানের বদলে ‘মিষ্টি’ সোনা! পূর্ব মেদিনীপুরের কৃষকদের পকেটে এখন লক্ষ লক্ষ টাকা, কীভাবে?

ধান চাষের চিরাচরিত পথে না হেঁটে এখন ‘মিষ্টি’ সোনার খোঁজে পূর্ব মেদিনীপুরের এগরার কৃষকরা। জেলার এগরার মহাবিশ্রা এলাকায় বিঘার পর বিঘা জমিতে এখন আখের জয়জয়কার। অনুকূল মাটি আর আবহাওয়াকে কাজে লাগিয়ে আখ চাষ করেই এখন দু’হাতে মোটা টাকা কামাচ্ছেন এই এলাকার কয়েকশো কৃষক পরিবার। ধান চাষের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে আখের ফলন ও বাজারদর ভালো হওয়ায় এই চাষের প্রতি আগ্রহ এখন তুঙ্গে।
আখ চাষের কৌশল ও পরিচর্যা:
এখানকার কৃষকরা জানান, আখের ফলন ভালো পেতে প্রথমে জমিকে খুব ভালো করে চাষ দিয়ে তৈরি করতে হয়। মাটিতে সঠিক পরিমাণে জৈব ও রাসায়নিক সারের মিশ্রণ ঘটিয়ে জমি প্রস্তুত করা জরুরি। সাধারণত জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের মধ্যে আখের কাণ্ড বা ‘সেট’ রোপণ করা হয়। রোপণের সময় খেয়াল রাখা হয় প্রতিটি কাণ্ডে যেন অন্তত ২-৩টি গাঁট থাকে। সারিবদ্ধভাবে রোপণের কয়েকদিন পর থেকেই চারা বের হতে শুরু করে। তবে এই চাষে প্রয়োজন নিয়মিত সেচ, আগাছা পরিষ্কার এবং রোগ-পোকা দমনে সময়মতো ওষুধ প্রয়োগ।
খরচ ও লাভের হিসেব:
ধানের তুলনায় আখ চাষে শ্রম ও খরচ কিছুটা বেশি হলেও লাভের অঙ্কটা অনেক বেশি আকর্ষণীয়। এক বিঘা জমিতে বীজ, সার, শ্রমিক ও সেচ মিলিয়ে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। ফসল পরিপক্ক হতে সময় লাগে প্রায় ১০ থেকে ১২ মাস। বিঘাপ্রতি ফলন পাওয়া যায় প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ কুইন্টাল। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী, সমস্ত খরচ বাদ দিয়েও এই চাষে কৃষকদের পকেটে ঢুকছে মোটা অঙ্কের মুনাফা। যার ফলে মহাবিশ্রা এলাকার অনেক কৃষকই এখন ধান চাষ কমিয়ে আখের দিকেই বেশি ঝুঁকছেন।