তারকেশ্বরে বিজেপির ‘গৃহযুদ্ধ’! তৃণমূলের পতাকা ছেঁড়া আটকাতে গিয়ে রক্তারক্তি কাণ্ড পদ্ম শিবিরে

ভোটের দামামা বাজতেই তপ্ত হুগলির তারকেশ্বর। তবে এবার কোনও বিরোধী দলের সঙ্গে নয়, খোদ বিজেপি কর্মীদের মধ্যেই বেঁধে গেল রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম। সৌজন্যে— তৃণমূলের পতাকা ছেঁড়া। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই বিজেপি কর্মীর বিবাদে রক্তাক্ত হলেন একজন। আক্রান্ত কর্মীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে তারকেশ্বর গ্রামীণ হাসপাতাল থেকে চুঁচুড়া সদর হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত:
স্থানীয় সূত্রে খবর, গয়েশপুরের বাসিন্দা নিমাই সামন্ত ও কমল সামন্ত দুজনেই সক্রিয় বিজেপি কর্মী। এলাকায় বিজেপির পতাকা লাগানোর সময় কমল সামন্ত আচমকাই তৃণমূলের পতাকা ছিঁড়ে ফেলে দিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ। নিমাই সামন্ত এর তীব্র প্রতিবাদ করেন এবং জানান যে অন্য দলের পতাকা ছেঁড়া অনুচিত। এই নিয়ে দুজনের মধ্যে শুরু হয় প্রবল বচসা। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে এবং একে অপরের ওপর বাঁশ ও কাঁচের বোতল নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন। বোতলের আঘাতে নিমাইয়ের মাথা ফেটে যায় এবং তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
গ্রেফতার ও রাজনৈতিক চাপানউতোর:
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত কমল সামন্ত-সহ আরও এক বিজেপি কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারকেশ্বরের রাজনৈতিক মহলে পারদ চড়ছে। তারকেশ্বরের তৃণমূল প্রার্থী রামেন্দু সিংহরায় এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে বিজেপিকে ‘দুষ্কৃতীদের দল’ বলে আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁর দাবি, বিজেপির সংস্কৃতিই হলো হিংসা। অন্যদিকে, বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি গণেশ চক্রবর্তী এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছেন, এটি নিছকই একটি পারিবারিক দ্বন্দ্ব যাকে রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার চেষ্টা করছে তৃণমূল কংগ্রেস। বর্তমানে এলাকায় পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে।