আকাশছোঁয়া মুদ্রাস্ফীতি! পাকিস্তানে আটার বস্তা ২ হাজার, লিটার প্রতি পেট্রোল ৪৫৮ পার— ভয়াবহ সঙ্কটে পড়শি দেশ

ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কট তৈরি হলেও, প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তানের পরিস্থিতি এখন অগ্নিগর্ভ। অন্যান্য দেশ যখন যুদ্ধ সামলাতে ব্যস্ত, তখন পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ ধুঁকছেন চরম জীবনযুদ্ধে। একদিকে যুদ্ধের প্রভাব, অন্যদিকে শাহবাজ সরকারের একের পর এক জনবিরোধী সিদ্ধান্ত— সব মিলিয়ে কার্যত নরককঙ্কাল দশা সে দেশের সাধারণ মানুষের। সরকারের কর বৃদ্ধি, ভর্তুকি প্রত্যাহার এবং পরিষেবা হ্রাসের ফলে জ্বালানি থেকে খাদ্যদ্রব্য— সবকিছুর দাম এখন সাধারণের নাগালের বাইরে।

জ্বালানির দামে নয়া রেকর্ড
মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে পাকিস্তানে জ্বালানির দাম আকাশ স্পর্শ করেছে। ডিজেলের দাম এক ধাক্কায় ৫৪.৯% বৃদ্ধি পেয়ে লিটার প্রতি ৫২০.৩৫ পাকিস্তানি রুপি ($১.৮৮) হয়েছে। অন্যদিকে পেট্রোলের দাম ৪২.৭% বেড়ে পৌঁছেছে ৪৫৮.৪০ রুপিতে। এই বিপুল দাম বৃদ্ধির ফলে পরিবহন খরচ বহুগুণ বেড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর ওপর। মুদ্রাস্ফীতি জানুয়ারির ৫.৮ শতাংশ থেকে লাফিয়ে ৭.৩ শতাংশে পৌঁছেছে।

অন্ধকার এবং অনাহারে পাকিস্তান
তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় গ্যাসের দামও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। মার্চে এক সিলিন্ডার এলপিজির দাম ছিল ২,৬৬৫ রুপি, যা এখন ৩,৫০০ রুপিতে গিয়ে ঠেকেছে। অর্থাৎ এক মাসেই দাম বেড়েছে ৯০০ রুপির বেশি। এখানেই শেষ নয়, ২০২৬ সালের মার্চ মাসের বিলের জন্য ইউনিট প্রতি ১.৬২ রুপি বিদ্যুৎ শুল্ক বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এর ফলে সাধারণ মানুষের কাছে রান্না করা কিংবা রাতে আলো জ্বালানো— দু’টিই এখন বিলাসিতা।

খাদ্যপণ্যের হাহাকার ও ঋণের বোঝা
বাজার দর এখন সাধারণ মধ্যবিত্তের দুঃস্বপ্ন। আটার দাম ৩৫ শতাংশ বেড়ে ২০ কেজির বস্তা ২,০০০ রুপিতে পৌঁছেছে। ডাল, দুধ এবং সবজির দামও লাফিয়ে বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে অর্থনীতি স্থিতিশীল করতে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ পাকিস্তান সুদের হার বাড়িয়ে ১০.৫ শতাংশ করেছে। ফলে গৃহঋণ থেকে শুরু করে ব্যবসায়িক ঋণ— সবকিছুই এখন সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে। সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার পরিবর্তে আইএমএফ-এর ঋণ পেতে ভর্তুকি কমিয়ে ও কর বাড়িয়ে জনগণকে আরও বিপদে ঠেলে দিচ্ছে পাকিস্তান সরকার।