ডিএ জট কাটল! মৃত কর্মী ও পেনশনভোগীদের বকেয়া নিয়ে অর্থ দপ্তরের নতুন ‘মেকানিজম’, জারি হেল্পলাইন নম্বর

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে রাজ্যের সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) প্রদানের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু করেছে নবান্ন। তবে মৃত কর্মী এবং প্রয়াত পেনশনভোগীদের বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) ও মহার্ঘ ত্রাণ (DR) কীভাবে তাঁদের পরিবারের হাতে পৌঁছাবে, তা নিয়ে দীর্ঘদিনের সংশয় ছিল। অবশেষে সেই জট কাটাতে বিশেষ নির্দেশিকা জারি করল রাজ্যের অর্থ দপ্তর।
গত ২৩ মার্চ প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে নবান্ন স্পষ্ট করেছে যে, ১ এপ্রিল ২০০৮ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত সময়কালের বকেয়া টাকা মেটানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট ‘মেকানিজম’ বা পদ্ধতি তৈরি করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় মৃত কর্মীর মনোনীত ব্যক্তি (Nominee) বা আইনগত উত্তরাধিকারীরা কীভাবে আবেদন করবেন, তার বিস্তারিত গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে।
আবেদনের পদ্ধতি ও সময়সীমা:
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দাবিদারদের বিজ্ঞপ্তি জারির ১৮০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথি ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ সহ আবেদন জমা দিতে হবে। বকেয়া ডিএ-র ক্ষেত্রে আবেদন করতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্মীর শেষ কর্মস্থলের দপ্তরে। অন্যদিকে, বকেয়া মহার্ঘ ত্রাণের (DR) জন্য যোগাযোগ করতে হবে পেনশন বিতরণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে।
সহায়তার জন্য হেল্পলাইন:
আবেদনকারীদের সুবিধার্থে অর্থ দপ্তরের পেনশন শাখা একটি বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর ও ইমেল আইডি চালু করেছে।
হেল্পলাইন নম্বর: ০৩৩-২২৫৩৫৪১৭
ইমেল আইডি: ifms-wb@gov.in
টাকা পাওয়ার নিয়মাবলী:
যদি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে মনোনীত ব্যক্তির (Nominee) নাম আগে থেকেই নথিভুক্ত থাকে, তবে সরাসরি তাঁর মাধ্যমেই টাকা মেটানো হবে। বর্তমান পারিবারিক পেনশনভোগী এবং মনোনীত ব্যক্তি যদি একই মানুষ হন, তবে টাকা সরাসরি তাঁর অ্যাকাউন্টে ঢুকে যাবে। তবে নমিনির তথ্য না থাকলে, আইনগত উত্তরাধিকারীদের প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে এবং যথাযথ যাচাইয়ের পর বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হবে।
২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে মৃত কর্মীদের ক্ষেত্রে ই-সার্ভিস বুক আপডেট করে এইচআরএমএস-এর (HRMS) মাধ্যমে হিসাব কষা হবে। আর ২০১৫-র পরবর্তী সময়ে মৃতদের ক্ষেত্রে অনলাইন তথ্যের ভিত্তিতেই দ্রুত সুরাহা মিলবে। রাজ্য সরকারের এই সুশৃঙ্খল পদক্ষেপে কয়েক হাজার পরিবার উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।