‘উত্তরাধিকারে পাওয়া আলুর গোডাউন নয়!’ রাহুল মৃত্যুতে আর্টিস্ট ফোরামকে নজিরবিহীন আক্রমণ সুদীপার

ওড়িশার সমুদ্র সৈকতে শুটিং করতে গিয়ে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল মৃত্যু টলিউডের অন্দরে যে ক্ষোভের আগুন জ্বালিয়েছিল, তা এবার আগ্নেয়গিরির আকার নিল। ১ এপ্রিল ওয়েস্ট বেঙ্গল মোশন পিকচার আর্টিস্টস ফোরামের দেওয়া একটি বিবৃতিকে কেন্দ্র করেই বিতর্কের সূত্রপাত। যেখানে প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’-এর কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হলেও, সেই চিঠিতে ছিল না কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির স্বাক্ষর কিংবা ফোরামের সরকারি সিলমোহর। আর এই ‘গাফিলতি’ দেখেই সমাজমাধ্যমে ফেটে পড়লেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও সঞ্চালিকা সুদীপা চট্টোপাধ্যায়।

সুদীপা তাঁর পোস্টে ফোরামের বর্তমান নেতৃত্বকে তুলোধনা করে লিখেছেন, “রাহুলকে শ্রদ্ধা জানানোর নামে গা বাঁচিয়ে চলার স্বভাবটা এবার ছাড়ুন। আপনারা একটা স্বশাসিত ফোরাম চালান, উত্তরাধিকারে পাওয়া কোনো আলুর গোডাউন নয়।” তাঁর প্রশ্ন, ফোরামের সেই পুরনো সাহস আর দাপট কোথায় গেল, যার সামনে একসময় প্রযোজকরা মাথা নোয়াতে বাধ্য হতেন? সব্যসাচী চক্রবর্তী বা অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো লড়াকু ব্যক্তিত্বদের অভাব যে আজ প্রকট, সে কথা মনে করিয়ে দিতেও ছাড়েননি তিনি।

সুদীপার কটাক্ষ, সই-সাবুদহীন এই চিঠির কোনো আইনি মূল্য নেই। তিনি ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, “ব্যাপারটা আরও চুপিচুপি করুন। এগজিকিউটিভ বডির সবাই রাহুলের বাড়ির নিচে গিয়ে একটা করে বেনামী চিঠি ফেলে দিয়ে আসুন। তাতে সাপও মরবে, লাঠিও ভাঙবে না। বিবেক প্রশ্ন করলে ওই চিঠি দেখিয়ে দেবেন, আবার প্রযোজকের বিষনজর থেকেও বাঁচা যাবে।” সুদীপার এই বিস্ফোরক বক্তব্যের পর মুখে কুলুপ এঁটেছে আর্টিস্ট ফোরাম। কতদিনের মধ্যে প্রযোজনা সংস্থাকে জবাব দিতে হবে, তারও কোনো উল্লেখ না থাকায় সাধারণ শিল্পী মহলে এখন তীব্র অসন্তোষ।