আকাশে মাছি গললেও ধরা পড়বে! ভারতের নতুন ‘মাউন্টেন রাডারে’র আতঙ্কে ঘুম উড়ল দুই পড়শি দেশের

ভারতের সীমান্ত পাহারায় এবার নিযুক্ত হতে চলেছে এক অজেয় প্রহরী। শুধু পাকিস্তান বা চিন নয়, ভারতের সার্বভৌমত্বের দিকে যারা ভ্রু কুঁচকে তাকাবে, তাদের সবার জন্যই আসছে চরম দুঃসংবাদ। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে নিশ্ছিদ্র করতে ভারত এক বিশাল পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রায় ১,৯৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি অত্যাধুনিক ‘মাউন্টেন রাডার’ ব্যবস্থা এবার মোতায়েন করা হচ্ছে সীমান্ত জুড়ে। এই প্রযুক্তির বিশেষত্ব হলো, অতীতে যে সমস্ত দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নজরদারি চালানো কঠিন ছিল, সেখানেও এখন শত্রুপক্ষের প্রতিটি ইঞ্চি গতিবিধি ভারতের নজরে থাকবে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সম্প্রতি ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেডের (BEL) সঙ্গে এই মেগা চুক্তিটি স্বাক্ষর করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের অন্যতম বড় এই চুক্তির অধীনে ভারতীয় বিমান বাহিনী দুটি অত্যাধুনিক মাউন্টেন রাডার এবং তার আনুষঙ্গিক পরিকাঠামো পাবে। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই রাডারটি ডিজাইন করেছে ডিআরডিও-র বেঙ্গালুরু-ভিত্তিক গবেষণাগার ‘এলআরডিই’। এটি মূলত ‘বাই (ইন্ডিয়া-আইডিডিএম)’ প্রকল্পের অধীনে তৈরি, যা দেশের আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা নীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রাডার চালু হওয়া মাত্রই ভারতের আকাশপথের নিরাপত্তা কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। এটি কেবল শত্রুর যুদ্ধবিমান বা ড্রোন শনাক্ত করবে না, বরং নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করবে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রকেও। অত্যন্ত নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র থেকে শুরু করে ছোট ড্রোন—কোনো কিছুই এই রাডারের চোখ এড়িয়ে সীমান্ত পার হতে পারবে না। যেকোনো প্রতিকূল আবহাওয়া এবং হাড়কাঁপানো ঠাণ্ডাতেও এই রাডার সমান কার্যকর। হিমালয়ের মতো উঁচু ও কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল অঞ্চলে ভারতীয় বিমান বাহিনীর ক্ষমতা বৃদ্ধিতে এই মাউন্টেন রাডার এক গেম-চেঞ্জার হতে চলেছে।