মৃত্যুর ৪ দিন পর ফিরে এলেন তরুণী! পরলোকে কার দেখা পেলেন প্যামেলা? হাড়হিম করা অভিজ্ঞতায় তোলপাড় নেটপাড়া

মৃত্যুর ওপারের জগত নিয়ে কৌতূহল মানুষের চিরকালের। পরলোক কি আদৌ আছে? নাকি সবটাই মস্তিষ্কের কল্পনা? এই তর্কের মাঝেই উত্তর ক্যারোলিনার প্যামেলা ন্যান্সের এক অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা বিশ্বজুড়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। ১৯৯০ সালে মাত্র ২২ বছর বয়সে প্যামেলা চার দিন ধরে ‘ক্লিনিক্যালি ডেড’ বা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় মৃত ছিলেন। কিন্তু চার দিন পর অলৌকিকভাবে যখন তাঁর প্রাণ ফিরে আসে, তখন তিনি যে গল্প শোনালেন, তা শুনে তাজ্জব বনে গেছেন ডাক্তার থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ।

প্যামেলা জানান, শরীরে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হওয়ার ফলে আচমকাই তিনি বাড়িতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। কিন্তু সেই চার দিন তাঁর আত্মা কোথায় ছিল? প্যামেলার বর্ণনা অনুযায়ী, শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর তিনি এক অপূর্ব সুন্দর উপত্যকায় পৌঁছে গিয়েছিলেন। সেখানে ছিল ঘন সবুজ গাছপালা, রঙিন ফুল এবং এক বিশাল ‘ট্রি অফ লাইফ’। চারপাশ ছিল এক অপার্থিব শান্তিতে ভরা। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, সেই পরলোকে তিনি নিজের কোনো মৃত আত্মীয়স্বজন বা বাবা-মায়ের দেখা পাননি। পরিবর্তে তাঁর সামনে এসে দাঁড়ায় একদল পশু।

প্যামেলার দাবি, সেই পশুদের চোখেমুখে ছিল নিঃশর্ত ভালোবাসা। আচমকাই সেই ভিড় ঠেলে বেরিয়ে আসে ‘হোলি’। হোলি ছিল প্যামেলার অত্যন্ত প্রিয় পোষ্য কুকুর, যে তাঁর ‘মৃত্যুর’ মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে মারা গিয়েছিল। প্যামেলা বলেন, “হোলিকে দেখে আমি যে আনন্দ পেয়েছিলাম তা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব।” দীর্ঘক্ষণ সেই স্বর্গীয় পরিবেশে কাটানোর পর চিকিৎসকদের চেষ্টায় আবার পৃথিবীর আলো দেখেন প্যামেলা। জ্ঞান ফেরার পর তিনি প্রথম এই অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতার কথা জানান।

বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্যামেলার এই কাহিনি দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। নেটিজেনদের একাংশ মনে করছেন, পশুদের ভালোবাসা এতটাই পবিত্র যে মৃত্যুর পরও ওরাই আগে পথ দেখায়। আবার বিজ্ঞানীদের মতে, এটি ‘নিয়ার ডেথ এক্সপেরিয়েন্স’ (NDE) বা মস্তিষ্কের বিশেষ কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়া হতে পারে। তবে কারণ যাই হোক, চার দিন পর মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা এবং পোষ্যর সঙ্গে সেই মিলনের গল্প আজও কোটি কোটি মানুষকে ভাবিয়ে তুলছে।