পাহাড়ের কোলে রডোডেনড্রনের স্বর্গরাজ্য! উত্তর সিকিমের ভিড় এড়িয়ে ঘুরে আসুন অপূর্ব ‘ওখরে’

উত্তর সিকিমের চেনা ভিড়ভাট্টা থেকে দূরে, পাইন আর রডোডেনড্রনের ছায়ায় ঘেরা এক শান্ত জনপদ হলো ওখরে (Okhrey)। পশ্চিম সিকিমের এই ছোট্ট গ্রামটি মূলত ‘বার্সে রডোডেনড্রন অভয়ারণ্য’-এর প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। আপনি যদি মেঘেদের দেশে দু-দিন নিভৃতে কাটাতে চান এবং জানলার পর্দা সরালেই কাঞ্চনজঙ্ঘার দর্শন পেতে চান, তবে ওখরে আপনার জন্য আদর্শ ঠিকানা।
কেন যাবেন ওখরে?
রডোডেনড্রনের মেলা: মার্চ-এপ্রিল মাসে ওখরে থেকে বার্সে পর্যন্ত পুরো রাস্তা ফুলে ফুলে লাল হয়ে থাকে। প্রকৃতির এই রূপ বর্ণনা করা কঠিন।
ট্রেকিং স্বর্গ: হিলে (Hilley) থেকে বার্সে পর্যন্ত সহজ ট্রেকিং রুটটি নবীন ট্রেকারদের জন্য দারুণ রোমাঞ্চকর।
উগেন থার্ডলিং মঠ: গ্রামের ঠিক ওপরে অবস্থিত এই প্রাচীন মঠটি বৌদ্ধ ঐতিহ্যের ধারক। এখান থেকে ডারউইন উপত্যকা এবং পাহাড়ি শৃঙ্গের ৩৬০ ডিগ্রি ভিউ পাওয়া যায়।
ভ্রমণের সেরা সময়:
১. বসন্ত (মার্চ-মে): এটিই ওখরে যাওয়ার শ্রেষ্ঠ সময়। চারপাশ রডোডেনড্রন ফুলে রঙিন হয়ে থাকে।
২. শরৎ ও শীত (অক্টোবর-ফেব্রুয়ারি): আকাশ পরিষ্কার থাকে বলে কাঞ্চনজঙ্ঘার অপূর্ব দৃশ্য চোখে পড়ে। জানুয়ারিতে গেলে বরফ পাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে ষোলোআনা।
কীভাবে পৌঁছাবেন?
শিলিগুড়ি বা এনজেপি (NJP) থেকে গাড়ি ভাড়া করে জুরেথাং (Jorethang) বা সোমবোরিয়া (Sombaria) হয়ে ওখরে পৌঁছানো যায়। গ্যাংটক থেকেও ১১০-১২০ কিমি পথ পেরিয়ে এখানে আসা সম্ভব।
থাকার ব্যবস্থা:
এখানে থাকার জন্য আধুনিক হোটেলের চেয়ে হোমস্টে (Homestay) বেশি জনপ্রিয়। স্থানীয় লেপচা বা ভুটিয়া পরিবারের আতিথেয়তা এবং ঘরোয়া খাবারের স্বাদ আপনার ভ্রমণকে আরও স্মরণীয় করে তুলবে।