“এত লোক থাকতে রাহুল ডুবল কী করে?” প্রোডাকশনের গাফিলতিতে ফেটে পড়লেন খরাজ মুখোপাধ্যায়

অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল প্রয়াণ কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও অভিভাবকসম অভিনেতা খরাজ মুখোপাধ্যায়। তালসারির সমুদ্রে শুটিং করতে গিয়ে রাহুলের এই মর্মান্তিক পরিণতিতে টলিপাড়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুললেন তিনি।
সুরক্ষা নিয়ে বিস্ফোরক খরাজ:
রাহুলের মতো একজন গুরুত্বপূর্ণ অভিনেতার মৃত্যুতে ইউনিটের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন খরাজ। ‘আজকাল ডট ইন’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আউটডোর শুটিংয়ে তো বড় ইউনিট যায়। রাহুল এমন কোনো এলেবেলে অভিনেতা নয় যে তাঁকে নজরে রাখার দরকার নেই। এতগুলো মানুষ থাকা সত্ত্বেও একটা শিল্পীর এই পরিণতি হয় কী করে? প্রোডাকশন ম্যানেজার বা বাকিরা তখন কোথায় ছিল?” তাঁর সাফ কথা, অভিনেতা-অভিনেত্রীরা ইউনিটের ভরসাতেই আউটডোরে যান, কিন্তু এই ঘটনা সেই ভরসায় বড়সড় ধাক্কা দিল।
স্মৃতির পাতায় ‘প্রিয় অরুণোদয়’:
রাহুলকে তাঁর ‘অরুণোদয়’ নাম থেকেই চেনেন খরাজ। সেই ‘এক আকাশের নিচে’ ধারাবাহিক থেকে প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে প্রেম, বিয়ে এবং জীবনের সব চড়াই-উতরাইয়ের সাক্ষী তিনি। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে খরাজ জানান, রাহুল ছিলেন ভীষণ জ্ঞানী এবং মিশুকে। বোলপুরে ‘শহর থেকে দূরে’ ছবির শুটিংয়ের সময় ৫-৬ কেজি চিংড়ি মাছ নিয়ে এসে খরাজকে দিয়ে মালাইকারি রান্নার আবদার করেছিলেন রাহুল। সেই হাসিখুশি মুখটাই এখন বারবার ভেসে উঠছে খরাজের চোখে।
পড়ে যাওয়া ছিল তাঁর ‘সিগনেচার’:
‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ছবিতে রাহুলের পড়ে যাওয়ার দৃশ্যটি আইকনিক হয়ে গিয়েছিল। খরাজ মজা করে জানান, রাহুল নিজেই বলতেন পরিচালকেরা তাঁর জন্য একটা পড়ে যাওয়ার দৃশ্য রাখতে চাইতেন। এমনকি অনিকেত চট্টোপাধ্যায়ের ছবিতেও তিনি নিজে আবদার করে ধুতি-পাঞ্জাবি পরে পড়ে যাওয়ার দৃশ্য অভিনয় করেছিলেন। সেই প্রাণবন্ত মানুষটি যে এভাবে চিরতরে চলে যাবেন, তা এখনও অবিশ্বাস্য খরাজের কাছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট:
গত ২৯ মার্চ ওড়িশার তালসারিতে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন সমুদ্রে তলিয়ে যান রাহুল। বোট থেকে পড়ে গিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিক খবরে জানা গিয়েছে। পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে এবং আজ তাঁর ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা।