তামার পাত্রের জল কি আপনার শরীরের জন্য বিষ? অজান্তে লিভার ও কিডনি নষ্ট হচ্ছে না তো?

জলই জীবন, কিন্তু সেই জল কোন পাত্রে রেখে খাচ্ছেন, তার ওপর নির্ভর করছে আপনার আয়ু। বর্তমানে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের ড্রয়িং রুম থেকে অফিস ব্যাগ—সবখানেই জায়গা করে নিয়েছে উজ্জ্বল তামার বোতল বা গ্লাস। কিন্তু আপনি কি জানেন, যে অভ্যাসকে আপনি পরম উপকারী বলে মনে করছেন, তা আপনার শরীরের ধাতের ওপর নির্ভর করে বিষের মতো কাজ করতে পারে? আয়ুর্বেদ শাস্ত্র এবং আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান—উভয়ই তামার জলের নির্দিষ্ট কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে কড়া সতর্কতা জারি করেছে।
আয়ুর্বেদ অনুযায়ী, তামার প্রকৃতি হলো ‘উষ্ণ’ এবং ‘তীক্ষ্ণ’। এটি হজমশক্তি বাড়াতে এবং শরীরের মেদ ঝরাতে সাহায্য করলেও, সবার শরীর তামার এই উষ্ণতা সহ্য করতে পারে না। বিশেষ করে যাঁদের শরীরে ‘পিত্ত দোষ’ বেশি বা যাঁদের শরীর এমনিতেই গরম প্রকৃতির, তাঁদের জন্য তামার জল হিতে বিপরীত হতে পারে। যাঁদের ঘনঘন অ্যাসিডিটি, বুক জ্বালা বা পেটে আলসারের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য তামার পাত্রের জল বিপদ ডেকে আনতে পারে। এমনকি ত্বকের র্যাশ বা নাক দিয়ে রক্ত পড়ার ধাত থাকলেও এই জল এড়িয়ে চলাই মঙ্গল।
সবচেয়ে বড় সতর্কতা হলো লিভার ও কিডনি রোগীদের জন্য। চিকিৎসকদের মতে, যাঁদের লিভার বা কিডনিজনিত ক্রনিক সমস্যা রয়েছে, তাঁদের শরীর থেকে অতিরিক্ত কপার বা তামা সহজে বেরিয়ে যেতে পারে না। ফলে রক্তে তামার পরিমাণ বেড়ে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই অঙ্গ দুটির অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে। এমনকি ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রেও এটি রক্তে শর্করার ভারসাম্য বিঘ্নিত করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ছোট শিশুদের সংবেদনশীল পাচনতন্ত্রের জন্যও খালি পেটে তামার জল ক্ষতিকর হতে পারে।
তাহলে কি তামার জল খাবেন না? অবশ্যই খাবেন, তবে নিয়ম মেনে। তামার পাত্রে জল অন্তত ৮ ঘণ্টা রাখা প্রয়োজন, তবে কোনোভাবেই তা ১২ ঘণ্টার বেশি হওয়া উচিত নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো—টানা তিন মাস তামার জল খাওয়ার পর অন্তত এক মাস বিরতি দিতে হবে। এতে শরীরে অতিরিক্ত কপার জমার সুযোগ পায় না। মনে রাখবেন, সুস্থতা নির্ভর করে সঠিক ভারসাম্যের ওপর, অন্ধ অনুকরণের ওপর নয়। তাই আপনার শরীরের প্রকৃতি বুঝে তবেই জলের পাত্র নির্বাচন করুন।