পিওকে-তে ভয়াবহ রক্তপাত! নির্বিচারে সেনার গুলিতে প্রাণ হারালেন প্রায় ৪০ জন সাধারণ নাগরিক

চরম অর্থনৈতিক সংকট, বঞ্চনা এবং অধিকারের দাবিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর (PoK)। দীর্ঘদিনের এই অসন্তোষ এবার ভয়াবহ রক্তপাতের রূপ নিয়েছে। পিওকে-তে চলা ব্যাপক গণআন্দোলনের ওপর পাকিস্তানি সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর নির্বিচারে চালিত গুলিতে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এই মর্মান্তিক পরিস্থিতির মধ্যেই পাক অধিকৃত কাশ্মীরের প্রতিবাদীদের সরাসরি ‘শত্রু’ আখ্যা দিয়ে এক অত্যন্ত উসকানিমূলক ও বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ।

পিওকে-তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও সেনার দমনপীড়ন

গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে পিওকে-র নাগরিকরা নিজেদের মৌলিক অধিকার ও সুশাসনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন। সম্প্রতি সেখানে তথাকথিত আইনসভার নির্বাচন শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও চরমে পৌঁছায়। গত সোমবার প্রথম দফার নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তোলে স্থানীয়রা। এর প্রতিবাদে এবং ১২টি বিধানসভা আসন বাতিলের দাবিতে মঙ্গলবার রাওয়ালকোট থেকে মুজাফফরাবাদের দিকে একটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদী মিছিল বের করে নাগরিক সংগঠন ‘জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’।

প্রায় ৫,০০০ মানুষের সেই শান্তিপূর্ণ মিছিলে আচমকাই চড়াও হয় পাকিস্তানি নিরাপত্তা কর্মীরা। নির্বিচারে গুলি চালানো হয় সাধারণ মানুষের ওপর। এই নৃশংস দমনপীড়নে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৪০ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে ৩৪ জন সাধারণ বিক্ষোভকারী এবং ৬ জন পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন ২০ জনেরও বেশি মানুষ। এর জেরে বুধবার মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় দোকানপাট ও বাজার সম্পূর্ণ বন্ধ রেখে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।

পাক মন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্য

নিজ দেশের নাগরিকদের ওপর এই বর্বর হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করার পরিবর্তে উল্টো বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে খড়্গহস্ত হয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, “আমি আজাদ কাশ্মীরের (পিওকে) বিক্ষোভকারীদের ভারতের সমকক্ষ এবং ভারতের মতোই শত্রু হিসেবে গণ্য করি।” তাঁর এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, ইসলামাবাদের শাসকগোষ্ঠী পিওকে-র সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে কতটা হিংস্রভাবে দমন করতে চাইছে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে পিওকে-তে পিএমএল-এন (PML-N) এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টির (PPP) মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে, কারণ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পিটিআই (PTI) এই নির্বাচন ইতিমধ্যেই বয়কট করেছে। তবে যেভাবে সেনার বুটের তলায় পিওকে-র সাধারণ মানুষের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে, তাতে গোটা অঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *