নিজের হাতের বিষমুক্ত সবজি খেতে চান? বাজার থেকে কেনা সবজির অবশিষ্টাংশ থেকেই শুরু করুন ‘রি-গ্রোইং’

কীটনাশক আর রাসায়নিকের ভিড়ে টাটকা সবজি খুঁজে পাওয়া দায়। কিন্তু সমাধান রয়েছে আপনার হাতের কাছেই, একেবারে আপনার রান্নাঘরে! বাজার থেকে আনা সবজির যে অংশগুলো আমরা সাধারণত ডাস্টবিনে ফেলে দিই, যেমন—পেঁয়াজের নিচের অংশ, পুদিনার ডাল কিংবা ধনেপাতার শিকড়; ঠিক সেখান থেকেই জন্ম নিতে পারে আস্ত একটি গাছ। একেই বলা হয় ‘রি-গ্রোইং’ বা পুনরুৎপাদন পদ্ধতি। এতে বীজের খরচ নেই, নার্সারিতে যাওয়ার ঝক্কিও নেই।

কীভাবে ঘরেই শুরু করবেন সবজি চাষ? * পুদিনা ও ধনেপাতা: রান্নার জন্য পাতা ছিঁড়ে নেওয়ার পর ডালটি ফেলে দেবেন না। একটি কাঁচের গ্লাসে জল দিয়ে ডালটি ডুবিয়ে রাখুন। এক সপ্তাহের মধ্যেই দেখবেন সাদা সাদা শিকড় গজিয়েছে। এরপর মাটিতে পুঁতে দিলেই কেল্লাফতে!

  • পেঁয়াজ ও রসুন: রান্নাঘরে রাখা পেঁয়াজে অনেক সময় কলি বেরিয়ে যায়। ওই পেঁয়াজটি বা রসুনের একটি কোয়া মাটিতে বসিয়ে দিন। অল্প দিনেই পেয়ে যাবেন টাটকা পেঁয়াজ পাতা বা রসুন পাতা।

  • আদা ও হলুদ: আদার গায়ে ছোট ছোট কুঁড়ি বা ‘চোখ’ দেখা দিলে সেই অংশটি কেটে মাটিতে পুঁতে দিন। কয়েক মাসের মধ্যেই মাটির নিচে নতুন আদা জমতে শুরু করবে।

  • গাজর ও বিট: গাজরের ওপরের আধ ইঞ্চি অংশ কেটে একটি ছোট পাত্রে জল দিয়ে জানলার ধারে রোদে রাখুন। কয়েক দিনেই কচি সবুজ পাতা বেরোবে, যা স্যালাডের স্বাদ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে।

বিশেষ যত্ন ও টিপস: পরিবেশবিজ্ঞানীদের মতে, এই পদ্ধতিতে চাষের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি। যদি জলে শিকড় গজাতে চান, তবে প্রতিদিন জল পাল্টাতে হবে, না হলে ছত্রাক জন্মাতে পারে। শিকড় একটু শক্ত হলেই গাছটিকে পুষ্টিসমৃদ্ধ মাটিতে স্থানান্তরিত করুন। এই পদ্ধতি আপনার পকেটের টাকা যেমন বাঁচাবে, তেমনি কমিয়ে দেবে ঘরোয়া বর্জ্যের পরিমাণও। সবশেষে, নিজের হাতে ফলানো রাসায়নিকমুক্ত সবজির যে স্বাদ ও তৃপ্তি, তা বাজারের সবজিতে মেলা অসম্ভব।