রাষ্ট্রপতিকে চরম অসম্মান! ‘আইন-গণতন্ত্র কিছুই মানেন না মমতা’, সংসদে দাঁড়িয়ে বিস্ফোরক জে পি নাড্ডা

পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সাম্প্রতিক সফরকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া চরম বিতর্ক এবার আছড়ে পড়ল দেশের সংসদে। গত শনিবার উত্তরবঙ্গে এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতিকে প্রথাগতভাবে স্বাগত না জানানো এবং প্রশাসনের অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা। সংসদে দাঁড়িয়ে নাড্ডা দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গই একমাত্র রাজ্য যেখানে আইনের কোনো শাসন নেই এবং বিচারব্যবস্থাকে প্রতিনিয়ত ভয় দেখানো হয়।
এদিন সংসদে তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় যখন মহিলা মুখ্যমন্ত্রীকে টার্গেট করার প্রসঙ্গ তোলেন, তখন পালটা হুঙ্কার দিয়ে নাড্ডা বলেন, “একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী একজন মহিলা রাষ্ট্রপতির ঘোরতর অসম্মান করেছেন। তিনি শুধু রাষ্ট্রপতি পদের অবমাননা করেননি, এক জনজাতি বা আদিবাসী মহিলার সম্মানেও গভীর আঘাত করেছেন।” নাড্ডার অভিযোগ, আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে যোগ দিতে আসা রাষ্ট্রপতির জন্য পর্যাপ্ত জায়গার ব্যবস্থা করা হয়নি বলে অজুহাত দিয়েছিল রাজ্য প্রশাসন। খোদ রাষ্ট্রপতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, “আমিও বাংলার মেয়ে, কিন্তু আমাকে বাংলায় আসতেই দেওয়া হয় না। মমতাদি ছোটবোন, জানি না ওঁর কী রাগ!”
জে পি নাড্ডা সংসদে আরও কড়া ভাষায় বলেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক রীতিনীতির প্রতি কোনো শ্রদ্ধা নেই। এমনকি নির্বাচন কমিশনকেও এই রাজ্যে সম্মান দেওয়া হয় না। প্রধানমন্ত্রীর উষ্মাপ্রকাশের পর নাড্ডার এই মন্তব্য বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন করে ঘি ঢেলেছে। নাড্ডার সাফ কথা, এই রাজ্যে নিয়মশৃঙ্খলা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে এবং বিরোধীদের পাশাপাশি সাংবিধানিক পদাধিকারীদেরও ভয় দেখানো হচ্ছে।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই সোশাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি এই ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক ও নজিরবিহীন’ বলে বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতি নিজে যেখানে আক্ষেপ করে বলেছেন যে ওঁর ওপর হয়তো দিদির কোনো রাগ আছে, সেই আবেগপ্রবণ মন্তব্যকে হাতিয়ার করে তৃণমূলের ‘নারী ক্ষমতায়ন’ ও ‘আদিবাসী দরদ’ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিজেপি। ভোটের মুখে এই ‘রাষ্ট্রপতি বনাম মুখ্যমন্ত্রী’ সংঘাত যে শাসক দলের জন্য বড় অস্বস্তির কারণ হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।