নির্বাচন কমিশনারকে কালো পতাকা! ‘মমতার সাজানো চিত্রনাট্য’ ফাঁস করে বিস্ফোরক অগ্নিমিত্রা!

রাজ্য সফরে এসে নজিরবিহীন বিক্ষোভের মুখে পড়লেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। মঙ্গলবার কলকাতায় পা রাখার পর থেকেই তাঁকে দফায় দফায় বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। কালীঘাট থেকে দক্ষিণেশ্বর—একের পর এক জায়গায় তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকরা তাঁকে কালো পতাকা দেখান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের একবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল বাংলার রাজনীতি। শাসক দলের এই ‘বিক্ষোভ’ আদতে ভয় থেকে জন্মানো একটি ‘সাজানো নাটক’, এমনটাই দাবি করেছেন আসানসোলের বিজেপি বিধায়িকা অগ্নিমিত্রা পাল।

তৃণমূলের দাবি, এসআইআর (SIR) কাণ্ডে নাম বাদ পড়া সংক্রান্ত বিষয়ে জনরোষের কারণেই এই বিক্ষোভ। তবে বিজেপি এই যুক্তি মানতে নারাজ। অগ্নিমিত্রা পাল সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে আক্রমণ করে বলেন, “শাসক দল বুঝতে পেরেছে যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হলে তাদের পায়ের তলার মাটি সরে যাবে। সেই কারণেই কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদের ভয় দেখাতে এই ধরনের অগণতান্ত্রিক পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।” তাঁর দাবি, রাজ্য প্রশাসন পরিকল্পিতভাবে এই বিক্ষোভের রাস্তা তৈরি করে দিয়েছে যাতে নির্বাচন কমিশনারকে চাপে রাখা যায়।

জ্ঞানেশ কুমার কলকাতায় আসার পর থেকেই নিরাপত্তা বলয় থাকা সত্ত্বেও কীভাবে বিক্ষোভকারীরা তাঁর একদম কাছে পৌঁছে কালো পতাকা দেখাচ্ছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে গেরুয়া শিবির। কালীঘাটে মন্দিরে পুজো দিতে যাওয়ার সময় এবং পরে দক্ষিণেশ্বরেও একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হয়। অগ্নিমিত্রার বক্তব্য, “মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে বাধা দিয়ে তৃণমূল আসলে নিজেদের পরাজয় স্বীকার করে নিচ্ছে। এটা কোনো জনরোষ নয়, বরং তৃণমূলের সাজানো ‘খেলা’ যা এখন ফাঁস হয়ে গিয়েছে।”

ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগে এই ধরনের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিরোধীদের দাবি, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা ভেঙে পড়েছে, তা নির্বাচন কমিশনার নিজে চোখে দেখে গেলেন। এই ঘটনার পর কমিশন কড়া কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। ডেইলিয়ান্ট-এর পাঠকদের জন্য এই খবরটি এখন টক অফ দ্য টাউন।