রান্নাঘরে হাহাকার! কলকাতা থেকে মুম্বই, দেশজুড়ে কি এবার বন্ধ হতে চলেছে ৫০০০ রেস্তোরাঁ?

পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কালো মেঘ এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল ভারতের ভোজনরসিকদের পাতে। যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহে টান পড়ায় কলকাতা-সহ দেশের বড় শহরগুলির হোটেল ও রেস্তোরাঁয় বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে শহরের শত শত নামী-দামী রেস্তোরাঁ ঝাঁপ বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারে।
ন্যাশনাল রেস্টুরেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (NRAI)-এর কলকাতা শাখার প্রধান পীযূষ কঙ্করিয়া এক চাঞ্চল্যকর তথ্যে জানিয়েছেন, শুধুমাত্র কলকাতাতেই প্রায় ৫০০০ রেস্তোরাঁ রয়েছে। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, প্রায় ৪০ শতাংশ রেস্তোরাঁ ইতিমধ্যেই জানিয়েছে যে তাদের পরিষেবা বিঘ্নিত হতে শুরু করেছে। আরও ৩০-৪০ শতাংশ রেস্তোরাঁ জানিয়েছে যে তাদের কাছে যেটুকু মজুত আছে, তাতে বড়জোর আর দিন দুয়েক উনুন জ্বলবে। মঙ্গলবার শহরজুড়ে বাণিজ্যিক এলপিজির কোনো সরবরাহ ছিল না বললেই চলে।
শুধু কলকাতাই নয়, মুম্বই, বেঙ্গালুরু এবং চেন্নাইয়ের মতো মেট্রো শহরগুলিও একই সংকটের মুখে। মুম্বইয়ের পরিস্থিতি আরও শোচনীয়। সেখানে প্রায় ২০ শতাংশ হোটেল ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। মহারাষ্ট্রের হসপিটালিটি সংস্থা ‘AHAR’-এর আশঙ্কা, আগামী দু’দিনের মধ্যে সরবরাহ না বাড়লে মুম্বইয়ের ৫০ শতাংশ রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে যাবে। আইটি হাব সেক্টর ফাইভের ছোট দোকানদার থেকে শুরু করে বড় হোটেলের মালিক—সবার কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ।
কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য রান্নার গ্যাস এবং পরিবহণ ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দিতে পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পের গ্যাস বরাদ্দে কাটছাঁট করেছে। কিন্তু তাতেও বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের ঘাটতি মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। ৫.৭ লক্ষ কোটি টাকার এই বিশাল শিল্পক্ষেত্র, যার ওপর প্রায় ৮০ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান নির্ভরশীল, তা আজ খাদের কিনারায়। NRAI ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরিকে চিঠি লিখে জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। সরবরাহ অন্তত ২৫ শতাংশ চালু না রাখলে লক্ষ লক্ষ হোটেল কর্মচারী এবং রেস্তোরাঁর ওপর নির্ভরশীল পড়ুয়া ও কর্মজীবীদের খাদ্যের জোগান সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।