‘সংবিধান মেনেই কাজ’, মমতার ব্যঙ্গচিত্রের জবাবে কড়া বার্তা নির্বাচন কমিশনের

বাংলার ভোট রাজনীতিতে এবার যোগ হলো তুলি আর ক্যানভাসের লড়াই। ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্ণা মঙ্গলবার পঞ্চম দিনে পা দিল। আর এই মঞ্চ থেকেই ক্যানভাসে ছবি এঁকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে তীব্র কটাক্ষ করলেন তৃণমূলনেত্রী। রাজ্যে যখন নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ ভোট প্রস্তুতি খতিয়ে দেখছে, ঠিক তখনই মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘প্রতীকী’ প্রতিবাদ জাতীয় রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
ছবির নেপথ্যে কী বার্তা? এদিন ধর্ণামঞ্চে বসে একটি ছবি আঁকেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্যানভাসের ওপর বড় বড় অক্ষরে লেখা ছিল ‘ভ্যানিশ কুমার’। ছবির পাশে রাখা ছিল দুটি মালা। মুখ্যমন্ত্রী এর ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় মৃতদের নাম বাদ দেওয়ার দোহাই দিয়ে আসলে লক্ষ লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম ‘ভ্যানিশ’ বা গায়েব করে দেওয়া হয়েছে। ওই মালা দুটি আসলে সেই সব ভোটারদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য, যাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
কমিশনের পাল্টা জবাব: মুখ্যমন্ত্রীর এই লাগাতার আক্রমণের সরাসরি কোনো উত্তর না দিলেও, সাংবাদিক সম্মেলনে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তিনি সাফ জানান, কোনো রাজনৈতিক নেতার ব্যক্তিগত মন্তব্য নিয়ে কমিশন মাথা ঘামাবে না। কমিশন সম্পূর্ণভাবে সংবিধান মেনে কাজ করে। তবে ভোটের আগে বা পরে হিংসা রুখতে কমিশন যে অত্যন্ত কঠোর হবে, সেই বার্তাও এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।
ভোটের দফা নিয়ে জল্পনা: রাজ্যে কত দফায় ভোট হবে, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি কমিশন। জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বাংলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করে দিল্লি ফিরে গিয়েই চূড়ান্ত দিনক্ষণ ও দফা ঘোষণা করা হবে। একদিকে রাজপথে মমতার ক্যানভাস-যুদ্ধ, অন্যদিকে কমিশনের সংবিধান রক্ষার হুঙ্কার—সব মিলিয়ে ভোটের আগে তপ্ত তিলোত্তমা।