ভাতা নিন কিন্তু ভোট নয়! সরকারি প্রকল্পের টাকা নিয়ে তৃণমূলকে ডোবানোর ‘অভিনব দাওয়াই’ সজলের

রাজ্যের বর্তমান কর্মসংস্থান নীতি এবং ভাতা ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল সরকারকে নজিরবিহীন আক্রমণ শানালেন বিজেপি নেতা সজল ঘোষ। মঙ্গলবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপিতে একটি জনসভা থেকে তিনি ভোটারদের উদ্দেশে এক ‘অভিনব দাওয়াই’ দেন। সজলের সাফ কথা, “রাজ্য সরকারের দেওয়া ভাতা নেবেন, কিন্তু ভোট দেওয়ার সময় তৃণমূলকে নয়, বিজেপিকে ভোট দেবেন।” এদিন তাঁর নিশানায় ছিলেন সরাসরি তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং তাঁদের পরিবার।

ঘুগনি বনাম ভাইপো বিতর্ক: রাজ্য সরকারের স্বনির্ভরতার পাঠ দিতে গিয়ে অতীতে ঘুগনি বা চপ বিক্রির যে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, তাকেই এদিন হাতিয়ার করেন সজল ঘোষ। তিনি তীব্র ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী চান আমার ছেলে ঘুগনি বিক্রি করুক, আর ওঁর ভাইপো লাক্সারি গাড়ি চেপে ঘুরবে? এই দ্বিচারিতা আর চলবে না।” তিনি অভিযোগ করেন, যুবসমাজকে স্থায়ী কর্মসংস্থান না দিয়ে কেবল নামমাত্র ভাতার জালে আটকে রাখা হচ্ছে।

ভাতার তুলনা ‘ভিখারির আয়’-এর সাথে: রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্প, বিশেষ করে যেগুলোর মাধ্যমে সরাসরি টাকা পৌঁছয় সাধারণ মানুষের হাতে, সেগুলিকে এদিন ‘ভিখারির আয়ের’ সঙ্গে তুলনা করেন সজল। তাঁর দাবি, এক হাজার বা পাঁচশ টাকা দিয়ে মানুষের সম্মান কেনা যায় না। সজল ঘোষ ভোটারদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, “সরকার যে টাকা দিচ্ছে তা আপনার ট্যাক্সের টাকা। তাই টাকাটা বুক ঠুকে পকেটে পুরুন, কিন্তু ইভিএম-এর বোতাম টেপার সময় মনে রাখবেন এই সরকার আপনার ভবিষ্যৎ অন্ধকার করেছে।”

কুলপির এই সভা থেকে সজল ঘোষের এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল শুরু হয়েছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে পাল্টা জানানো হয়েছে, সজল ঘোষের এই মন্তব্য বাংলার মা-বোনেদের অপমান এবং তাঁদের উন্নয়নকে খাটো করে দেখার চেষ্টা। ভোটের মুখে কুলপির মাটি থেকে এই ‘ভাতা বনাম ভোট’ বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।