বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের নির্দেশ! বাংলার ভোটার তালিকা সংশোধনে সুপ্রিম রাশ

পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) নিয়ে চলা আইনি লড়াইয়ে মঙ্গলবার চরম নাটকীয় মোড় নিল। তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থিত আইনজীবীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সাফ জানিয়ে দিল, আদালত নিযুক্ত বিচারিক আধিকারিকদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা বরদাস্ত করা হবে না। শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “বিচারিক আধিকারিকদের নিয়ে প্রশ্ন তোলার সাহস দেখাবেন না। তাঁরা অতিরিক্ত সময় কাজ করছেন, আপনারা তাঁদের থেকে আর কী ত্যাগ চান?”

বিবাদের উৎস: রাজ্যের ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে কয়েক লক্ষ অভিযোগ জমা পড়েছিল। ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড থেকেও বিচারিক আধিকারিকদের এনে এই আপিল শোনার কাজ চলছিল। কিন্তু সম্প্রতি এই আধিকারিকদের একাংশের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে নতুন আবেদন জমা পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে শীর্ষ আদালত। তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়ে কোনও নতুন আবেদনের খবর নেই বলে দাবি করলেও আদালত স্পষ্ট করে দেয় যে, বিচার ব্যবস্থার ওপর কোনও রাজনৈতিক চাপ বা সন্দেহ বরদাস্ত করা হবে না।

সুপ্রিম কোর্টের বড় নির্দেশ: ১. অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল: বাদ পড়া ভোটারদের অভিযোগ শোনার জন্য একটি স্বাধীন ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সুপারিশে প্রাক্তন বিচারপতিদের নিয়ে এই ট্রাইব্যুনাল গঠিত হবে। ২. প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ নয়: বিচারিক আধিকারিকদের কোনও সিদ্ধান্ত কোনও প্রশাসনিক বা এক্সিকিউটিভ বডি চ্যালেঞ্জ করতে পারবে না। একমাত্র ট্রাইব্যুনালেই আবেদন করা যাবে। ৩. পরিকাঠামো নিশ্চিত করা: বিপুল সংখ্যক অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় সব সাহায্য করতে হবে।

আদালত জানিয়েছে, ইতিমধ্যে প্রায় ১০ লক্ষ আপত্তি জমা পড়েছে। ভোটের মুখে এই আইনি জট কাটানো এবং বিচারপতিদের নিরাপত্তা ও সম্মান বজায় রাখা এখন কমিশনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।