আহমেদাবাদে ‘বুম বুম’ গর্জনের অপেক্ষা! প্রাক্তন কোচের তুরুপের তাসই কি আজ ডোবাবে কিউয়িদের?

আমদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামের দিকে প্রতিটি রাস্তা এখন জনসমুদ্র। ঠিক যেন কলকাতার ডার্বির আগে যুবভারতীর আবহ। গুজরাটের কোণায় কোণায় এখন একটাই ধ্বনি— ‘ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়া’। আজ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে কিউয়ি চ্যালেঞ্জের মুখে টিম ইন্ডিয়া। আর এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে ভারতের তুরুপের তাস সেই ঘরের ছেলে যশপ্রীত বুমরা। যার বিষাক্ত ইয়র্কারে বিদ্ধ হতে তৈরি নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপ।
শিক্ষকের চোখে বুমরা: পড়াশোনায় ফাঁকি, ক্রিকেটে লক্ষ্যভেদ আজ যখন গোটা বিশ্ব বুমরাকে নিয়ে চর্চা করছে, তখন নস্টালজিক তাঁর ছোটবেলার স্কুল ‘নির্মাণ হাইস্কুল’। বুমরার প্রাক্তন কোচ কিশোর ত্রিবেদী স্মৃতিচারণ করে জানালেন, ক্লাসরুমে খুব একটা মনোযোগী ছাত্র ছিলেন না যশপ্রীত, তাঁর মন পড়ে থাকত মাঠের বাইশ গজে। কিশোর বাবু সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “বুমরার বোলিং অ্যাকশনটাই ওর শক্তির জায়গা। আমি ওকে শুরুতেই বলেছিলাম, নিজের স্বাভাবিক অ্যাকশন যেন ও কখনও না বদলায়। ওর ইনসুইং আর আউটসুইংয়ের পার্থক্য ধরা বিশ্বের তাবড় ব্যাটারদের পক্ষেও অসম্ভব।”
বাউন্সার ছেড়ে ইয়র্কারে বিশ্বজয় জানলে অবাক হবেন, কেরিয়ারের শুরুতে শুধু বাউন্সার দিতেই পছন্দ করতেন বুমরা। কিন্তু সেই বল খেলা সহজ হয়ে যাওয়ায় তিনি নিজের পরিশ্রমের জোরে ইয়র্কারকে মারণ অস্ত্রে পরিণত করেন। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে ১৮তম ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়া বুমরা আজ ফাইনালেও ডিফারেন্স মেকার হয়ে উঠতে তৈরি।
কুসংস্কার বনাম পারফরম্যান্স অন্যদিকে, ফাইনালকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে হরেক রকম কুসংস্কার ও অযৌক্তিক দাবি। অতীতের হারের রেকর্ড (২০০৭, ২০১৬, ২০২১-এ কিউয়িদের কাছে হার) নিয়ে চলছে কাঁটাছেঁড়া। তবে সূর্যকুমার যাদবের দল আজ বদ্ধপরিকর এই সমস্ত ‘মিথ’ ভেঙে চুরমার করে দিয়ে মাঠেই যোগ্য জবাব দিতে। টিকিটের হাহাকার আর দর্শকদের উন্মাদনা বলছে, আহমেদাবাদ আজ শুধুই ইতিহাসের সাক্ষী হতে চায়।