“কেন ফাঁকা চেয়ার?” রাষ্ট্রপতির ক্ষোভের পরেই নড়বড়ে প্রশাসন, কেন্দ্রের চিঠির জবাবে অ্যাকশন মোডে রাজ্য

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর পশ্চিমবঙ্গ সফরকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন সংঘাত তৈরি হয়েছে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে। শিলিগুড়ির সভায় রাষ্ট্রপতির করা “সভা করতে দেওয়া হয়নি” এবং “চেয়ার কেন ফাঁকা” সংক্রান্ত মন্তব্যের জেরে রবিবারই নবান্নের কাছে কৈফিয়ত তলব করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। এদিন বিকেল ৫টার ডেডলাইনের মধ্যেই স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহনের কাছে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পাঠিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী।
ঘটনার সূত্রপাত শিলিগুড়িতে শনিবার আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কনফারেন্সে যোগ দিতে শিলিগুড়ির গোঁসাইপুরে আসেন রাষ্ট্রপতি। সেখানে বক্তৃতার মাঝেই তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “এত চেয়ার ফাঁকা কেন? আমি বুঝতে পারছি কেউ বাধা দিচ্ছে।” এরপর বিধাননগর এলাকায় গিয়ে তিনি সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম করে বলেন, “উনি আমার ছোট বোনের মতো, কিন্তু হয়তো কোনও কারণে রুষ্ট হয়ে আমায় সভা করতে দিলেন না।”
মোদী বনাম মমতার বাকযুদ্ধ রাষ্ট্রপতির এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করে। মেট্রো চ্যানেলের ধরনা মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পালটা জবাবে বলেন, “দেশের এক নম্বর চেয়ার আপনার, আপনাকে শ্রদ্ধা করি। কিন্তু ভোটের আগে রাজনীতি করবেন না।” অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক্স হ্যান্ডেলে তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করে লেখেন, “তৃণমূল সব সীমা লঙ্ঘন করেছে। রাষ্ট্রপতির প্রতি এই অসম্মানের জন্য প্রশাসনই দায়ী।”
নবান্নের রিপোর্ট ও পরবর্তী পদক্ষেপ এই উত্তপ্ত আবহে রবিবার সকালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব মুখ্যসচিবকে চিঠি পাঠিয়ে বিকেল ৫টার মধ্যে রিপোর্ট তলব করেন। নির্দেশ মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তথ্যের ভিত্তিতে রিপোর্ট পাঠিয়েছে নবান্ন। যদিও রিপোর্টের বিষয়বস্তু গোপন রাখা হয়েছে, তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রশাসনিক স্তরে কোনও গাফিলতি ছিল কি না বা ভিড় নিয়ন্ত্রণে কোনও বাধা দেওয়া হয়েছিল কি না, তার ব্যাখ্যামূলক উত্তর দেওয়া হয়েছে। এখন এই রিপোর্টের ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মন্ত্রক কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।