জন্ম ১৮৯৮ সালে! ১২৮ বছর বয়সেও দিব্যি হাঁটছেন, বই পড়ছেন; বিশ্বের প্রবীণতম মানুষের খোঁজ মিলল নাইজেরিয়ায়?

বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘজীবী মানুষের তকমা কি এবার বদলাতে চলেছে? নাইজেরিয়ার এক প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে আসা এক বৃদ্ধের দাবি ঘিরে এখন তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া। নাইজেরিয়ার ইমো প্রদেশের এমবাইতোলি এলাকার অবাজু এমবিয়েরি গ্রামের বাসিন্দা এই বৃদ্ধের দাবি, তাঁর বর্তমান বয়স ১২৭ এবং আগামী ৯ মার্চ তিনি ১২৮ বছরে পা দেবেন। যদি এই দাবি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তিনি হবেন মানব ইতিহাসের অন্যতম বিস্ময়।
স্মৃতিতে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, চোখে প্রখর দৃষ্টি:
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ১২৮ বছর বয়সের দাবিদার এই বৃদ্ধ অবিশ্বাস্যভাবে সক্রিয়। তাঁর কোনো স্মৃতিভ্রংশ বা ডিমেনশিয়া নেই। তিনি নিজের পায়ে হাঁটতে পারেন, এমনকি চশমা ছাড়াই বই পড়তে পারেন। সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ১৯১৫ সালের ঘটনা থেকে শুরু করে প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিনগুলো তাঁর আজও স্পষ্ট মনে আছে। স্থানীয়দের দাবি, এলাকার প্রথম অ্যাঙ্গলিকান চার্চ তৈরির অন্যতম সাক্ষী ও কারিগর ছিলেন তিনি।
চিঠিই কি একমাত্র প্রমাণ?
নাইজেরিয়ার ওই অঞ্চলে তৎকালীন সময়ে জন্ম নথিভুক্তকরণের ব্যবস্থা ছিল না। তাই কোনো সরকারি বার্থ সার্টিফিকেট নেই। তবে তাঁর পরিবারের কাছে ১৯১৮ সালের একটি পুরনো চিঠি রয়েছে। সেই সময় তাঁর বয়স ছিল ২০ বছর। ওই চিঠির সূত্র ধরেই দাবি করা হচ্ছে যে তাঁর জন্ম ১৮৯৮ সালের ৯ মার্চ। তবে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস বা কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা এখনও এই দাবির সত্যতা স্বীকার করেনি।
রেকর্ডের লড়াই: এথেল বনাম নাইজেরিয়ার বৃদ্ধ:
বর্তমানে সরকারিভাবে বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক জীবিত ব্যক্তি হলেন ব্রিটেনের এথেল ক্যাটারহ্যাম। ১১৬ বছর বয়সী এথেল ১৯০৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর নথিপত্র স্বীকৃত হওয়ায় তিনিই এখন বিশ্বরেকর্ডের মালকিন। তবে নাইজেরিয়ার এই বৃদ্ধের বয়স যদি সত্যিই ১২৮ হয়, তবে তিনি এথেলকে অনায়াসেই ছাপিয়ে যাবেন। আগামী ৯ মার্চ স্থানীয়রা তাঁর জন্মদিন পালনের বড়সড় প্রস্তুতি নিয়েছেন, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহল তুঙ্গে।