“পুতিন মানেই যুদ্ধ, আত্মসমর্পণ মানেই মৃত্যু!” যুদ্ধের চতুর্থ বর্ষপূর্তিতে হুঙ্কার জেলেনস্কির

রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের চার বছর। ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা ক্লান্ত ইউক্রেন কি তবে হার মানবে? সিএনএন-কে (CNN) দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সেই জল্পনা উড়িয়ে দিলেন ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ক্লান্তি থাকলেও আত্মসমর্পণ কোনো বিকল্প হতে পারে না। পুতিনের শর্ত মেনে নেওয়া মানে পুরো দেশটাকে হারিয়ে ফেলা।

পুতিন ও কারাগারের তুলনা:
জেলেনস্কির কথায়, “পুতিন মানেই যুদ্ধ। সে সবকিছু নিজের জন্য চায়। তার পুরো দেশটাই এখন একটা কারাগার।” তিনি সতর্ক করেছেন যে, সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো আপস করলে ইউক্রেনীয়দের অস্তিত্ব মুছে যাবে। হয় মানুষকে দেশ ছেড়ে পালাতে হবে, না হয় জোর করে রুশ হতে হবে। তিনি সাফ জানান, ডোনেৎস্কের মতো এলাকা থেকে সেনা সরানো মানে ২ লক্ষ মানুষের জীবন রুশদের হাতে তুলে দেওয়া, যা তিনি কখনোই করবেন না।

ট্রাম্প ও আমেরিকার ভূমিকা:
মার্কিন রাজনীতির প্রেক্ষাপটে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেছেন জেলেনস্কি। ট্রাম্প মস্কোর ওপর যথেষ্ট চাপ দিচ্ছেন কি না, এই প্রশ্নে তাঁর সোজাসাপ্টা জবাব— “না”। তিনি ওয়াশিংটনকে মনে করিয়ে দেন যে আমেরিকা যথেষ্ট শক্তিশালী, তারা চাইলেই পুতিনকে থামাতে পারে। তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে কোনো শান্তি চুক্তিতে সই করতে রাজি নয় কিয়েভ।

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পদধ্বনি:
বিশ্বজুড়ে চলা অস্থিরতা নিয়ে জেলেনস্কির দাবি আরও মারাত্মক। তিনি বলেন, “অনেকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করছেন, কিন্তু আমার বিশ্বাস পুতিন ইতিমধ্যেই তা শুরু করে দিয়েছেন।” তিনি মনে করেন, ইউক্রেন বর্তমানে বিশ্বের এক ‘আউটপোস্ট’ হিসেবে কাজ করছে যা যুদ্ধকে ইউরোপের গভীরে ছড়িয়ে পড়া থেকে আটকে রেখেছে। তাঁর দাবি, এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের লাইসেন্স এবং প্যাট্রিয়ট মিসাইলের মতো উন্নত অস্ত্র পেলে ইউক্রেনীয় অর্থনীতি ও জনজীবন দ্রুত স্বাভাবিক হবে।