নতুন প্যাকেটে পুরনো বিষ! রমজান ও দোলের আগে সক্রিয় ভেজাল চক্র, কানপুরে উদ্ধার ৫০ লক্ষ টাকার পচা খেজুর

উৎসবের আবহে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। উত্তরপ্রদেশের কানপুর-সহ একাধিক জায়গায় হানা দিয়ে বিপুল পরিমাণ ভেজাল ও বিষাক্ত খাদ্যপণ্য উদ্ধার করল খাদ্য সুরক্ষা বিভাগ। পচে যাওয়া ১০ হাজার কেজি খেজুর থেকে শুরু করে হাজার হাজার লিটার নকল সর্ষের তেল— তল্লাশিতে যা উঠে এসেছে, তা দেখে চক্ষু চড়কগাছ দুঁদে আধিকারিকদেরও।
নতুন লেবেলে পুরনো বিষ:
কানপুরের নৌবস্তা এলাকার একটি গুদামঘর থেকে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা মূল্যের ১০ হাজার কেজি মেয়াদোত্তীর্ণ খেজুর উদ্ধার হয়েছে। তদন্তে জানা গিয়েছে, এই খেজুরগুলির মেয়াদ ২০২২-২৩ সালেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আসন্ন রমজান ও দোল উৎসবের বিপুল চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা এগুলি নতুন প্যাকেটে ভরে তাজা হিসেবে বাজারে ছাড়ার ছক কষেছিল। আধিকারিকদের মতে, দু-তিন বছর আগের পচা খাদ্যপণ্য পেটে যাওয়া বিষপানের সমান।
নকল ঘি, পনির ও তেলের পাহাড়:
শুধু খেজুর নয়, কানপুর থেকেই উদ্ধার হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার লিটার নকল ভোজ্য তেল এবং ৫.৪৫ লক্ষ টাকার নকল ঘি। গাজিয়াবাদে ১২০০ কেজি বিষাক্ত পনির নষ্ট করে দিয়েছে প্রশাসন। দেওরিয়া ও বরাবঁকীতেও হানা দিয়ে ৬০০০ লিটার ভেজাল সর্ষের তেল, ৬০ কেজি নকল খোয়া ক্ষীর এবং বিপুল পরিমাণ ভেজাল মশলা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। লখনউয়ের একটি গোপন গুদাম থেকে উদ্ধার হয়েছে ৮.৫ কুইন্টাল ভেজাল চা।
প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ:
ইতিমধ্যেই উদ্ধার হওয়া সমস্ত নমুনা গবেষণাগারে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। দেওরিয়ার একটি সর্ষের তেল কারখানায় উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খাদ্য সুরক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে জানানো হয়েছে, উৎসবের কেনাকাটার সময় প্যাক করা খাবারের তারিখ এবং গুণমান ভালোভাবে যাচাই করে তবেই কিনুন। আপনার সামান্য অসতর্কতা ডেকে আনতে পারে বড়সড় শারীরিক বিপদ।