মাঝআকাশে নিখোঁজ এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স! ঝাড়খণ্ডের গভীর জঙ্গলে মিলল ধ্বংসাবশেষ, মর্মান্তিক পরিণতি ৭ আরোহীর

জীবন বাঁচাতে আকাশপথে পাড়ি দিয়েছিলেন তাঁরা, কিন্তু মাঝপথেই সব শেষ! রাঁচি থেকে দিল্লিগামী একটি এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স ভেঙে পড়ে প্রাণ হারালেন বিমানে থাকা সাতজন আরোহীই। সোমবার সন্ধেবেলা ঝাড়খণ্ডের চাতরা জেলার সিমারিয়া অঞ্চলের এক দুর্গম বনাঞ্চল থেকে উদ্ধার হয়েছে অভিশপ্ত বিমানটির ধ্বংসাবশেষ। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা দেশে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
সোমবার সন্ধে ৭টা ১১ মিনিটে রাঁচি বিমানবন্দর থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেয় বেসরকারি সংস্থা ‘রিবার্ড এয়ারওয়েজ প্রাইভেট লিমিটেড’-এর বিচক্র্যাফট কিং এয়ার সি-৯০ মডেলের বিমানটি। ওড়ার মাত্র ২৩ মিনিট পরেই এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের (ATC) সঙ্গে বিমানটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। রাডার থেকেও মুহূর্তের মধ্যে উধাও হয়ে যায় সিগন্যাল। জানা গিয়েছে, সেই সময় বিমানটি বারাণসী থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে প্রায় ১০০ নটিক্যাল মাইল দূরে ছিল।
কারা ছিলেন বিমানে?
দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানে মোট সাতজন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন এক মুমূর্ষু রোগী, তাঁর সঙ্গে থাকা দু’জন সহায়তাকারী, একজন চিকিৎসক, একজন প্যারামেডিক, পাইলট এবং কো-পাইলট। উদ্ধারকারী দল যখন দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, তখন দেখা যায় বিমানটি চুরমার হয়ে গিয়েছে এবং সাতজনই ঘটনাস্থলে প্রাণ হারিয়েছেন।
দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা:
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার ঠিক আগে খারাপ আবহাওয়ার মুখে পড়েছিল বিমানটি। আবহাওয়া অনুকূল না থাকায় পাইলট রুট পরিবর্তনের জন্য বার্তাও পাঠিয়েছিলেন। মনে করা হচ্ছে, খারাপ আবহাওয়া এবং রুট বদলের কারণেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর জঙ্গলে ভেঙে পড়ে বিমানটি। ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন (DGCA) এবং এয়ারক্র্যাফট অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB) ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে।