দিল্লিতে বড় ধামাকা! ৬০টি দেশের সঙ্গে সখ্যতা ওম বিড়লার, বিশেষ দায়িত্বে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়?

লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার নেতৃত্বে ভারতীয় সংসদীয় রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক অধ্যায় শুরু হতে চলেছে। বিশ্বের ৬০টিরও বেশি দেশের সঙ্গে ‘সংসদীয় বন্ধুত্ব গোষ্ঠী’ (Parliamentary Friendship Groups) গঠন করে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল ভারত। আর এই হাই-প্রোফাইল কূটনৈতিক মিশনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে উঠে আসছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
অভিষেকের নতুন ভূমিকা ও সংসদীয় সচিবালয়ের বার্তা:
তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে খবর, লোকসভা সচিবালয় থেকে ইতিমিধ্যেই এই বিষয়ে সবুজ সংকেত মিলেছে। ভারত যে আন্তর্জাতিক স্তরে দলমত নির্বিশেষে একজোট হয়ে কাজ করতে চায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অন্তর্ভুক্তি তারই বড় প্রমাণ। এই বন্ধুত্ব গোষ্ঠীগুলি বিভিন্ন দলের সাংসদদের একত্রিত করছে, যা ভারতীয় গণতন্ত্রের বহুত্ববাদী চরিত্রকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবে।
কোন কোন দেশ রয়েছে তালিকায়?
ভারত যে ৬০টি দেশের সঙ্গে এই বিশেষ জোট গড়ছে, তার মধ্যে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইজরায়েল, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং জাপানের মতো শক্তিশালী রাষ্ট্র। এ ছাড়াও প্রতিবেশী দেশ নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো প্রভাবশালী মহাদেশীয় সংসদের সঙ্গেও সরাসরি আইন প্রণয়নমূলক আলোচনা চলবে।
কূটনীতির নতুন লক্ষ্য:
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো প্রথাগত কূটনীতির বাইরে গিয়ে সাংসদদের মধ্যে সরাসরি অভিজ্ঞতা বিনিময় করা। বাণিজ্য, উন্নত প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, এবং টেকসই উন্নয়নের মতো বিষয়গুলি নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হবে। সংসদীয় প্রতিনিধিরা বিদেশে গিয়ে সেদেশের শাসনব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করবেন এবং ভারতের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরবেন।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর ‘অপারেশন সিঁদুর’ পরবর্তী সময়ের যে বহুদলীয় প্রচারের ধারা, এটি তারই প্রতিফলন। অর্থাৎ, জাতীয় স্বার্থ এবং নিরাপত্তার প্রশ্নে ভারত যে দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধ, এই উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে সেই বার্তাই দেবে।