ভোটের আগে নবান্নে চরম উত্তেজনা! ৮৫০৫ অফিসারের তালিকা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কড়া পদক্ষেপ!

রাজ্যে আসন্ন নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় জটিলতা তৈরি হলো। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে রাজ্য সরকার যে ৮৫০৫ জন অফিসারের নামের তালিকা পাঠিয়েছিল, তা নিয়ে এবার নজিরবিহীন কড়াকড়ি শুরু করল মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতর। নবান্নের পাঠানো সেই তালিকায় একাধিক অসঙ্গতি ও তথ্যের অভাব রয়েছে বলে মনে করছে কমিশন। ফলে ওই আধিকারিকদের সম্পর্কে একগুচ্ছ বিস্তারিত তথ্য চেয়ে নবান্নকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

কমিশন সূত্রে খবর, ওই ৮৫০৫ জন অফিসারের প্রত্যেকের ব্যক্তিগত ও পেশাদার জীবনের খুঁটিনাটি জানতে চাওয়া হয়েছে। বিশেষ করে, সংশ্লিষ্ট অফিসারদের স্থায়ী বাসস্থান কোন জেলায়, বর্তমানে তাঁরা কোন জেলায় কর্মরত এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় তদন্ত বা ভিজিল্যান্স মামলা ঝুলে রয়েছে কি না—এই তিনটি বিষয়ে স্পষ্ট রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। নির্বাচনের কাজে স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে নবান্নের তরফে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে কাজ শুরু করা হয়েছে। রাজ্যের মুখ্য সচিবকে এই মর্মে কড়া চিঠি দিয়েছে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। এর পরেই নবান্ন থেকে প্রতিটি জেলাশাসককে (DM) জরুরি নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরের মধ্যেই এই ৮৫০৫ জন অফিসারের যাবতীয় ব্যক্তিগত তথ্য ও ভিজিল্যান্স ক্লিয়ারেন্স রিপোর্ট নবান্নে জমা দেওয়ার ডেডলাইন নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক মহলের মতে, অনেক সময় দেখা যায় আধিকারিকরা নিজেদের জেলায় বা দীর্ঘ সময় ধরে এক জেলায় কর্মরত থাকাকালীন নির্বাচনের কাজে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পারেন না। সেই কারণেই কমিশন এবার তাঁদের ‘হোম ডিস্ট্রিক্ট’ এবং ‘পোস্টিং’ নিয়ে এত সজাগ। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই বিপুল সংখ্যক অফিসারের তথ্য জোগাড় করা এখন জেলাশাসকদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। সময়মতো রিপোর্ট না মিললে কমিশনের কোপে পড়তে হতে পারে রাজ্যকে, যা নির্বাচনের মুখে চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করবে।