দেশের ১১.৭০ লক্ষ শিশু স্কুলের বাইরে! মেয়েদের ড্রপআউট রেট কি অশনি সংকেত?

শিক্ষাকে জাতির মেরুদণ্ড বলা হলেও, ভারতের সেই মেরুদণ্ডে কি তবে ফাটল ধরছে? সাম্প্রতিক সরকারি পরিসংখ্যান এবং ইটিভি ভারত-এর একটি বিশেষ রিপোর্টে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে দেখা গেছে, দেশের ১১ লক্ষ ৭০ হাজার শিশু এখনও স্কুলের চৌকাঠ মাড়ায়নি। আরও ভয়াবহ তথ্য হলো, ২০২০-২৫ সালের মধ্যে প্রায় ৬৫ লক্ষ ৭০ হাজার শিশু মাঝপথেই পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে, যার মধ্যে ৪৫ শতাংশই কন্যাসন্তান। বিপুল অংকের শিক্ষা বাজেট থাকা সত্ত্বেও কেন এই করুণ পরিস্থিতি?

রাজ্যভিত্তিক চিত্র এবং কন্যাসন্তানদের করুণ দশা: স্কুলছুট শিশুদের সংখ্যার বিচারে দেশের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ। সেখানে প্রায় ৭.৮৪ লক্ষ শিশু শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। ঝাড়খণ্ড ও অসমেও এই সংখ্যা কয়েক হাজার। তবে সবথেকে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মেয়েদের ড্রপআউট রেট। মহারাষ্ট্রে ৬৬ শতাংশ মেয়ে সময় হওয়ার আগেই স্কুল ছেড়ে দিচ্ছে। এর পরেই রয়েছে হিমাচল প্রদেশ (৫৪.৮%) এবং মিজোরাম (৫৩.৮%)।

কেন বাড়ছে ড্রপআউট রেট? ইকোনমিক সার্ভে ২০২৫-২৬ অনুযায়ী, অধিকাংশ ক্ষেত্রে দরিদ্র পরিবারের অর্থনৈতিক চাহিদা মেটাতে কিশোর বয়সেই কাজে যোগ দিচ্ছে পড়ুয়ারা। মূলত যে কারণগুলো স্কুলছুটের জন্য দায়ী:

  • পরিবারের আয় বৃদ্ধিতে সাহায্য করা।

  • ঘরের কাজ বা ছোট ভাইবোনদের দেখাশোনা।

  • পড়াশোনায় আগ্রহ হারানো বা জটিল সিলেবাস।

  • শারীরিক অসুস্থতা বা অক্ষমতা।

  • বাল্যবিবাহ এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার অতিরিক্ত চাপ।

উন্নতির আলো ও সরকারি পদক্ষেপ: পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ২০২৬-২৭ বাজেটে শিক্ষা মন্ত্রকের জন্য ১,৩৯,২৮৯.৪৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। আশার কথা হলো, গত দুই বছরে প্রিপারেটরি (৩.৭% থেকে ২.৩%) এবং সেকেন্ডারি লেভেলে (১০.৯% থেকে ৮.২%) ড্রপআউট রেট কিছুটা কমেছে। ‘পিএম পোষণ’ (মিড-ডে মিল), ‘সমগ্র শিক্ষা’ এবং ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’-এর মতো প্রকল্পগুলো শিশুদের স্কুলে ধরে রাখতে বড় ভূমিকা পালন করছে। কস্তুরবা গান্ধী বালিকা বিদ্যালয়ের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলেও নারী শিক্ষার প্রসার ঘটানোর চেষ্টা চলছে।