লাথিতে বৃদ্ধ খুন তো হিমশৈলের চূড়া! সামনে এল তৃণমূল কাউন্সিলর রবীন্দ্রনাথের হাড়হিম করা অপরাধের খতিয়ান

ব্যারাকপুরের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের বহিষ্কৃত তৃণমূল কাউন্সিলর রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের ‘কীর্তি’র তালিকা যে কত দীর্ঘ, তা এখন পরতে পরতে সামনে আসছে। একজন অশীতিপর বৃদ্ধকে লাথি মেরে খুনের অভিযোগে গ্রেফতারের পর থেকেই তাঁর দীর্ঘ অপরাধমূলক অতীত নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষকে মারধর, পুলিশকে হেনস্থা থেকে শুরু করে তোলাবাজি— কী নেই সেই তালিকায়! তবে সবথেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, ব্যারাকপুরের তৎকালীন পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা স্বয়ং এই কাউন্সিলরের অপরাধ প্রবণতা নিয়ে রাজ্য বার কাউন্সিলকে চিঠি লিখেছিলেন।

মনোজ ভার্মার সেই চিঠিতে স্পষ্ট উল্লেখ ছিল যে, ২০১৭ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে ব্যারাকপুর থানাতেই পাঁচটি গুরুতর মামলা রুজু হয়েছিল। এমনকি ২০১৪ সালে তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনেও মামলা হয়েছিল। তৎকালীন বিজেপি নেতা (পরবর্তীতে তৃণমূল) হিসেবে তাঁর দাপট এতটাই ছিল যে, এজলাসের ভেতরে ঢুকে পুলিশের কাজে বাধা দিতেও তিনি পিছপা হননি। ২০২০ সালে বীজপুর থানার তৎকালীন ওসি-কে হেনস্থা করার অভিযোগও রয়েছে এই দুঁদে আইনজীবীর বিরুদ্ধে। মনোজ ভার্মা বারবার আর্জি জানিয়েছিলেন যাতে তাঁর আইনজীবী পদের লাইসেন্স নিয়ে পদক্ষেপ করা হয়, কিন্তু অদৃশ্য কোনো শক্তির দাপটে সেই সময় পুলিশ কার্যত হাত গুটিয়ে বসেছিল।

রাজনৈতিক রং বদলের সাথে সাথে রবীন্দ্রনাথের ক্ষমতাও বেড়েছে। কংগ্রেস থেকে বিজেপি, তারপর তৃণমূলে যোগ দিতেই যেন তিনি ‘মহীরূহ’ হয়ে ওঠেন। ২০২২ সালে কাউন্সিলর হওয়ার পর তাঁর অত্যাচার চরমে পৌঁছায়। স্থানীয় বাসিন্দা সাথী সরকার অভিযোগ করেছেন, বাড়ি সংস্কারের জন্য তাঁর কাছে ২২ হাজার টাকা কাটমানি চেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। টাকা না দেওয়ায় তাঁর ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়, যার ফলে আজও তিনি নিজের বাড়িতে ঢুকতে পারেননি। এলাকাবাসীর দাবি, সেই সময় পুলিশ যদি কড়া হতো, তবে আজ একজন বৃদ্ধকে প্রাণ হারাতে হতো না। বর্তমানে ব্যারাকপুর কমিশনারেটের ডিসি (সেন্ট্রাল) ইন্দ্রবদন ঝাঁ জানিয়েছেন, পুরনো মামলাগুলোর সাথে এই খুনের মামলার আইনি যোগ না থাকলেও, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।