রঙের আড়ালে লুকিয়ে মনের কথা! লাল না নীল— কোন টেডি দেবেন সঙ্গীকে? জেনে নিন আসল মানে

ভালোবাসার মরসুম এখন তুঙ্গে। গোলাপের সুবাস আর চকোলেটের মিষ্টতার পর আজ ১০ ফেব্রুয়ারি, ‘টেডি ডে’। ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহের চতুর্থ এই দিনে প্রিয় মানুষকে একটি নরম তুলতুলে খেলনা ভালুক বা টেডি বিয়ার উপহার দিয়ে নিজের যত্ন ও স্নেহের কথা জানান দিচ্ছেন প্রেমিক-প্রেমিকারা। কিন্তু এই মিষ্টি খেলনাটির জন্ম বা নামকরণের ইতিহাস বেশ নাটকীয়। কেনই বা একে ‘টেডি’ বলা হয়? এর পিছনে রয়েছে এক শতকেরও বেশি পুরনো এক কাহিনী।
টেডি বিয়ারের নামকরণের কৃতিত্ব সরাসরি দেওয়া হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৬তম প্রেসিডেন্ট থিওডর রুজভেল্টকে। ১৯০২ সালের নভেম্বর মাসে মিসিসিপিতে এক শিকার অভিযানে গিয়ে রুজভেল্ট একটি অসহায় আহত ভালুক ছানাকে গুলি করতে অস্বীকার করেন। তাঁর কাছে এই কাজ ছিল ‘অখেলোয়াড়োচিত’। এই মানবিক ঘটনাটি সে সময় সংবাদপত্রের কার্টুনে দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। তা দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে নিউইয়র্কের এক খেলনা বিক্রেতা দম্পতি কাপড়ের ভালুক ছানা তৈরি করেন এবং প্রেসিডেন্টের ডাকনাম ‘টেডি’ অনুসরণ করে এর নাম রাখেন ‘টেডি বিয়ার’।
মনোবিদদের মতে, ডিজিটাল যুগে দামী ফোন বা ইলেকট্রনিক গ্যাজেটের ভিড়েও টেডি বিয়ার তার জায়গা হারায়নি। কারণ এটি একটি অনুভূতির নাম। বিষণ্ণ মনে একটি নরম টেডি জড়িয়ে ধরা আজও মানসিক প্রশান্তি দেয়। বর্তমানে রঙের ওপর ভিত্তি করেও অনেকে মনের ভাব প্রকাশ করেন; যেমন লাল টেডি গভীর ভালোবাসার প্রতীক, আর নীল টেডি প্রকাশ করে সম্পর্কের গভীর বিশ্বাস। তাই এই দিনটি স্রেফ খেলনা বিনিময়ের নয়, বরং প্রিয় মানুষকে নিঃশব্দে এক দীর্ঘস্থায়ী আলিঙ্গন দেওয়ার দিন।