মাত্র ১৫ টাকায় ভাগ্যের চাকা ঘুরল! গুরগাঁও থেকে ফিরে শিবপুরীর রাস্তায় বাজিমাত যুবকের

চাকরির হাহাকার আর বেকারত্বের গ্লানির মাঝে আশার আলো দেখালেন মধ্যপ্রদেশের শিবপুরীর যুবক হেমন্ত বাথাম। উচ্চাকাঙ্ক্ষী কর্পোরেট চাকরির পিছনে না ছুটে তিনি প্রমাণ করে দিলেন, পরিশ্রম আর সততা থাকলে রাস্তার ধারের ছোট দোকান থেকেও সম্মান এবং সচ্ছলতা দুই-ই অর্জন করা সম্ভব। আজ তাঁর তৈরি স্বাস্থ্যকর ফলের রস শিবপুরীর মানুষের কাছে এক অপরিহার্য পানীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হেমন্তের এই সফরের শুরু হয়েছিল গুরগাঁওয়ে। সেখানে থাকাকালীন তিনি প্রায় ছয় মাস ধরে স্বাস্থ্যকর জুস তৈরির কৌশল রপ্ত করেন। তিনি লক্ষ্য করেছিলেন, ভোরের দিকে মানুষ তাজা ফলের রসের প্রতি কতটা আগ্রহী। সেই মডেলটিকেই নিজের শহর শিবপুরীতে ফিরিয়ে আনেন তিনি। শিবপুরীর গুরুদ্বার চকের গ্যালাক্সি হোটেলের কাছে প্রতিদিন ভোর সাড়ে ৫টা থেকে শুরু হয় তাঁর কর্মযজ্ঞ, যা চলে সকাল ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত।

হেমন্তের জুসের প্রধান বৈশিষ্ট্য হল এর সাধ্যের মধ্যে দাম এবং গুণমান। মাত্র ১৫ টাকায় তিনি লাউ-শসা, বিট-গাজর-আদা, আমলকী এবং অ্যালোভেরা-পুদিনার মতো অত্যন্ত উপকারী জুস পরিবেশন করেন। গত ৯ বছর ধরে তিনি এই কাজ করে আসছেন এক অদ্ভুত নিয়মে—বিন্দুমাত্র অবশিষ্টাংশ তিনি পরের দিনের জন্য রাখেন না। এই পরিচ্ছন্নতা আর টাটকা জিনিসের গ্যারান্টিই তাঁকে শিবপুরীর ‘স্বাস্থ্য বন্ধু’ করে তুলেছে। বর্তমানে হেমন্ত প্রতিদিন গড়ে ১৫০০ টাকার বেশি আয় করছেন, যা অনেক সরকারি বা বেসরকারি পদের চেয়েও বেশি। তবে তাঁর কথায়, “টাকা উপার্জনের চেয়েও মানুষের ওষুধের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে সুস্থ রাখাই আমার মূল লক্ষ্য।”