“২ কিমিতেই ১ লিটার তেল শেষ!”-‘সাঁজোয়া’ গাড়িতে ফাঁকা হচ্ছে বাংলার রাজকোষ, কপালে ভাঁজ নবান্নের

২০২৬-এর হাইভোল্টেজ নির্বাচনে কড়া নিরাপত্তার খাতিরে কোনো খামতি রাখতে চায়নি নির্বাচন কমিশন। আর সেই লক্ষ্যেই এবার বাংলার রাস্তায় প্রথমবার দাপিয়ে বেড়াতে দেখা গিয়েছে ভারী সাঁজোয়া গাড়ি। কিন্তু ভোট মিটতেই এখন সেই নিরাপত্তার ‘বিল’ মেলাতে গিয়ে কালঘাম ছুটছে নবান্নের প্রশাসনিক কর্তাদের। রাজকোষের ওপর কয়েক কোটি টাকার বাড়তি বোঝা চেপে বসায় কপালে ভাঁজ পড়েছে দুঁদে আমলাদের।
সাঁজোয়া গাড়ির ‘তেলখোর’ চরিত্র: প্রশাসনিক সূত্রের খবর, এই বিশেষ গাড়িগুলো সাধারণ গাড়ির মতো নয়। ভারী আর্মার প্লেটিং এবং আধুনিক যন্ত্রপাতিতে ঠাসা এই একটি সাঁজোয়া গাড়ি গড়ে মাত্র ২ থেকে ৩ কিলোমিটার চলতেই খরচ করে প্রায় ১ লিটার ডিজেল। রাজ্যে এমন শতাধিক গাড়ি মোতায়েন করা হয়েছে। ফলে শুধুমাত্র টহলদারির তেল খরচই যে বিপুল অঙ্কে পৌঁছাবে, তা বলাই বাহুল্য।
কাশ্মীর থেকে বাংলা: দীর্ঘ যাত্রার খরচ সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, এই গাড়িগুলো আনা হয়েছে সুদূর কাশ্মীর থেকে। প্রায় ২,৩০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সেগুলি বাংলায় পৌঁছেছে। যাওয়া-আসা এবং ভোটের সময় বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় টহল দেওয়া মিলিয়ে প্রতিটি গাড়ি গড়ে প্রায় ৫,০০০ কিলোমিটার পথ চলবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। প্রাথমিক হিসেবে দেখা যাচ্ছে, শুধুমাত্র এই গাড়িগুলোর জ্বালানি বাবদই রাজ্যের ওপর প্রায় আড়াই কোটি টাকার অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে।
ভাতা বৃদ্ধি ও বাড়তি বাহিনীর চাপ: খরচের বহর এখানেই শেষ নয়। নিরাপত্তার খাতিরে এবার প্রায় ২,৬৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। এমনকি ভোট-পরবর্তী হিংসা রুখতে আরও ৭০০ কোম্পানি বাহিনীকে রাজ্যে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের নতুন কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা অনুযায়ী:
-
কেন্দ্রীয় বাহিনীর দৈনিক নির্বাচন ভাতা ৩৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করা হয়েছে।
-
বিপুল সংখ্যক এই বাহিনীর আবাসন, যাতায়াত এবং ভাতার ভার রাজ্যের কাঁধেই এসে পড়েছে।
হিসাবনিকাশে নবান্ন: প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ১,২০০ থেকে ১,৩০০ কোম্পানি বাহিনীর খরচ ধরা থাকলেও, পরে সেই সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় বাজেট পুরোপুরি বিগড়ে গিয়েছে। নবান্নের প্রশাসনিক মহলে এখন জোর কদমে চলছে অডিট। সব মিলিয়ে নিরাপত্তা খাতের এই বিপুল ব্যয় শেষ পর্যন্ত বাংলার অর্থনীতির ওপর ঠিক কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।