মর্গে পড়ে স্ত্রী-সন্তানের নিথর দেহ, চোখের জল মুছেই ‘শুনানি’তে স্কুল শিক্ষক! মালদহের মর্মান্তিক ঘটনায় স্তব্ধ রাজ্য

মালদহের এক মর্মান্তিক ঘটনা আজ মানবিকতার সংজ্ঞাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। স্ত্রী ও নয় মাসের শিশুপুত্রের নিথর দেহ হাসপাতালের মর্গে রেখে সরকারি শুনানিতে (Hearing) হাজিরা দিতে ছুটলেন এক অসহায় পিতা। শুক্রবার মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে এমন দৃশ্য দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি উপস্থিত কেউই।
মৃত হালিমা খাতুন এবং তাঁর শিশুপুত্র আরিফ হাসানের দেহ যখন ময়নাতদন্তের অপেক্ষায় মর্গে পড়ে, তখন তাদের প্রিয়জন এমডি ইয়াসিন আনসারিকে ব্যস্ত থাকতে হলো নথিপত্রের শুনানিতে। কালিয়াচকের সুজাপুর নয়মৌজা হাই মাদ্রাসার শিক্ষক ইয়াসিন গাজোলের বাসিন্দা। নথিতে নামের বানান ভুল সংশোধন করার জন্য শুক্রবার শুনানির ডাক পেয়েছিলেন তিনি ও তাঁর স্ত্রী। বৃহস্পতিবার রাতে সেই কারণেই টোটো করে আসছিলেন তাঁরা। কিন্তু পথে সুস্তানি এলাকায় টোটো উল্টে যাওয়ার ফলে ঘটনাস্থলেই হালিমা এবং হাসপাতালে শিশুটির মৃত্যু হয়।
মৃতার পরিবারের আক্ষেপ, এই শুনানির ডাক যদি না আসত, তবে হয়তো আজ হাসিখুশি পরিবারটি এভাবেই ধ্বংস হয়ে যেত না। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলছেন, এমন ভয়াবহ শোকের মুহূর্তেও একজন মানুষকে কীভাবে প্রশাসনিক বাধ্যবাধকতায় শুনানিকেন্দ্রে ছুটতে হয়, তা ভাবা যায় না। ইয়াসিন আনসারির এই লড়াই এবং ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।