রাজ্যের ঘাড়ে ৮ লক্ষ কোটির ঋণের পাহাড়! ২০২৬-এর বাজেটে আরও কত ধার নিচ্ছে সরকার?

২০১১ সালে বামফ্রন্ট সরকার যখন ক্ষমতা থেকে বিদায় নেয়, তখন পশ্চিমবঙ্গের ঘাড়ে ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লক্ষ ৮৭ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু গত ১৫ বছরে সেই পরিসংখ্যান কার্যত আকাশ ছুঁয়েছে। বর্তমানে রাজ্যের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ লক্ষ ১৫ হাজার ৮৯১ কোটি টাকা। ২০২৬ সালের অন্তর্বর্তী বাজেটের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন, এই ঋণের বোঝা আগামী দিনে আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
আয়ের উৎস বনাম ক্রমবর্ধমান খরচ: বাজার থেকে আরও ৮০,৪৪৪ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে রাজ্য সরকার। প্রশ্ন উঠছে, এই বিপুল ঋণের টাকা মিটবে কীভাবে? বাজেটে আয়ের কোনো সুস্পষ্ট দিশা না থাকায় চিন্তিত ওয়াকিবহাল মহল। রাজ্যের আয়ের প্রধান দুটি উৎস হলো রাজস্ব (GST) এবং আবগারি শুল্ক। সরকার আশা করছে, নতুন অর্থবর্ষে এসডিএসটি (SGST) থেকে ৫৬ হাজার কোটি এবং আবগারি দপ্তর থেকে ২৪ হাজার কোটি টাকা আয় হবে। এছাড়া কেন্দ্রীয় গ্রান্ট হিসেবে ৪৭ হাজার কোটি টাকা পাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।
সরকারের যুক্তি ও বিরোধীদের পাল্টা তোপ: অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও অমিত মিত্রের দাবি, মানুষের উন্নয়নের জন্যই এই ঋণ নেওয়া হয়েছে। তাদের যুক্তি, বাম জমানার তুলনায় জিএসডিপির সঙ্গে ঋণের অনুপাত ৪৬% থেকে কমে ৩৭% হয়েছে। অমিত মিত্রর দাবি অনুযায়ী, ২০১১ সালের পর থেকে রাজস্ব আদায় ৬ গুণ এবং মূলধনী খরচ ১৮ গুণ বেড়েছে। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, এই খরচ মূলত জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বা ‘খয়রাতি’তে হচ্ছে, যা থেকে কোনো স্থায়ী আয় বা কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় না। পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর না দিলে রাজ্যের এই ঋণের ফাঁদ থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।