ফ্রিজে রাখা মাংস বিষ হয়ে যাচ্ছে না তো? সঠিক নিয়ম না মানলে লিভারের বারোটা!

মাছ বা মাংস কিনে এনেই সরাসরি ধুয়ে ফ্রিজে ঢুকিয়ে রাখা আমাদের অনেকেরই অভ্যাস। কিন্তু পুষ্টিবিদ ও খাদ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে প্যাকেজড বা কাঁচা মাংস যদি সঠিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ না করা হয়, তবে তা লিভারের গুরুতর অসুখ থেকে শুরু করে বিষক্রিয়ার কারণ হতে পারে।
কেন মাংস ধুয়ে ফ্রিজে রাখবেন না? অধিকাংশ মানুষই ভাবেন মাংস ধুয়ে রাখলে তা পরিষ্কার থাকে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাঁচা মাংস ধুলে তার মধ্যে থাকা জল মাংসের তন্তুর ভেতরে ঢুকে কোষগুলো নষ্ট করে দেয়। এর ফলে ব্যাকটেরিয়া খুব দ্রুত বংশবিস্তার করতে পারে। তাই মাংস ফ্রিজে রাখার আগে ধোয়া যাবে না, বরং রান্নার ঠিক আগে ভালো করে ধুয়ে নেওয়াই নিয়ম।
সংরক্ষণের সেরা উপায়: প্রথমেই মাংসের গায়ে লেগে থাকা অতিরিক্ত রক্ত ও জল ঝরিয়ে নিতে হবে। এর জন্য কয়েক ঘণ্টা ঝাঁঝরি বা ছাঁকনিতে মাংস রেখে দিন। এরপর একবারে সব মাংস এক জায়গায় না রেখে, প্রতিবার রান্নার প্রয়োজন অনুযায়ী ছোট ছোট ভাগে ভাগ করুন। বারবার ফ্রিজ থেকে মাংস বের করে বরফ গলানো এবং পুনরায় তা ফ্রিজে ঢোকানো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
প্যাকেজিং ও তাপমাত্রা: মাংস সবসময় এয়ারটাইট জিপলক ব্যাগ বা পলিথিন ব্যাগে মুড়ে রাখুন যাতে কোনোভাবেই বাতাস ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে। এতে ‘ফ্রিজার বার্ন’ বা মাংসের ওপর বরফের স্তর জমার ভয় থাকে না। প্যাকেটের ওপর মাংসের ধরণ এবং তারিখ লিখে রাখা ভালো। ডিপ ফ্রিজের তাপমাত্রা সর্বদা মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার নিচে রাখুন। এতে ৩ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত মাংসের পুষ্টিগুণ বজায় থাকে। তবে সেরা স্বাদের জন্য ১-২ মাসের মধ্যেই সেই মাংস খেয়ে ফেলা উচিত। রান্নার অন্তত ৩-৪ ঘণ্টা আগে ফ্রিজ থেকে বের করে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আনুন। মনে রাখবেন, একবার বরফ গলে গেলে সেই মাংস পুনরায় ফ্রিজে রাখা অত্যন্ত বিপজ্জনক।