কান্দাহার আর নয়! ২৬ বছরে কীভাবে বিশ্বের সেরা বিমান নিরাপত্তা বাহিনী হয়ে উঠল CISF? জানুন রোমাঞ্চকর যাত্রা

১৯৯৯ সালের ২৬ ডিসেম্বর ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট IC-814 হাইজ্যাকের সেই কালো দিনটি ভারতের বিমান চলাচলের ইতিহাসে এক বড় শিক্ষা ছিল। কান্দাহার কাণ্ডের পর সরকার বুঝতে পেরেছিল যে, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কেবল রাজ্য পুলিশের ওপর ছেড়ে রাখা নিরাপদ নয়। সেই লক্ষ্যেই ২০০০ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি রাজস্থানের জয়পুর বিমানবন্দরে প্রথমবার মোতায়েন করা হয় সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (CISF)। আজ, ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে CISF বিমানবন্দর নিরাপত্তায় তার ২৬টি গৌরবোজ্জ্বল বছর সম্পন্ন করল।
সাফল্যের খতিয়ান:
-
জয়পুর থেকে ৭১ বিমানবন্দর: জয়পুর থেকে শুরু হওয়া এই সফর আজ দেশের ৭১টি প্রধান বিমানবন্দরে ছড়িয়ে পড়েছে। বার্ষিক প্রায় ১৬ কোটি যাত্রীর নিরাপত্তা এখন এই বাহিনীর হাতে।
-
বিশ্বসেরার শিরোপা: দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ‘কোয়ালিটি কংগ্রেস’ বিশ্বের সেরা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, যা লন্ডন হিথ্রো বা দুবাই বিমানবন্দরের থেকেও উন্নত রেটিং পেয়েছে।
-
আধুনিক প্রযুক্তি: এক্স-রে স্ক্যানার, অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম এবং AI-ভিত্তিক প্রেডিক্টিভ অ্যানালিটিক্স ব্যবহার করে CISF এখন ‘স্মার্ট সুরক্ষা মডেল’ পরিচালনা করছে।
-
যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য: হ্যান্ড ব্যাগেজ স্ট্যাম্পিং বন্ধ করা এবং ই-গেট বা ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তির মাধ্যমে যাত্রীদের অপেক্ষার সময় অনেকটাই কমিয়ে এনেছে এই বাহিনী।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: ২০২৫ সালে ৬৯টি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত কর্মশালায় DGCA এবং BCAS-এর সাথে মিলে একটি নতুন ‘বিমানবন্দর নিরাপত্তা মডেল’ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে, যা আগামী দিনে আকাশপথকে আরও দুর্ভেদ্য করে তুলবে।