সম্পদ সরাতেই কি গোপনীয়তা? যোগীরাজ্যে ৬৮ হাজার কর্মীর বেতন বন্ধের নির্দেশে তোলপাড়!

উত্তরপ্রদেশের সরকারি কর্মচারীদের জন্য এক চরম হুঁশিয়ারি জারি করলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ার লক্ষ্যে এবার কঠোর পদক্ষেপ নিল যোগী সরকার। স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির খতিয়ান সরকারি পোর্টালে আপলোড না করায় রাজ্যের ৬৮,২৩৬ জন কর্মচারীর জানুয়ারি মাসের বেতন আটকে দেওয়া হয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক কর্মীর মধ্যে রয়েছেন প্রথম শ্রেণি থেকে চতুর্থ শ্রেণির কর্মীরাও, তবে বেতন বন্ধের কোপে সবচেয়ে বেশি পড়েছেন তৃতীয় শ্রেণির ক্লার্ক পর্যায়ের কর্মীরা।

তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের মোট ৬৫টি বিভাগের কর্মীরা তাঁদের সম্পদের বিবরণ গোপন করার তালিকায় রয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থা স্বাস্থ্য, স্বরাষ্ট্র (পুলিশ) এবং রাজস্ব বিভাগে। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, স্বাস্থ্য বিভাগের ১৫,১৫০ জন, পুলিশ প্রশাসনের ৬,৪৭৯ জন এবং রাজস্ব বিভাগের ৫,৬৮২ জন কর্মচারী এখনও তাঁদের সম্পত্তির হিসাব জমা দেননি। আইন অনুযায়ী, প্রতি বছর সমস্ত রাজ্য সরকারি কর্মচারীকে তাঁদের বার্ষিক সম্পদের বিবরণ দেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু সেই নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখানোয় এবার আর্থিক ধাক্কা দিল প্রশাসন।

রাজ্যে মোট ৭৩টি বিভাগের মধ্যে মাত্র ৮টি বিভাগের কর্মীরা ১০০ শতাংশ সততা বজায় রেখে তথ্য আপলোড করেছেন। এর মধ্যে পরিবেশ, জ্বালানি এবং আবাসন ও নগর পরিকল্পনা বিভাগের মতো দপ্তরগুলি রয়েছে। বেতন আটকে যাওয়া কর্মচারীদের তালিকায় ২২ হাজারেরও বেশি চতুর্থ শ্রেণি এবং ৭ হাজারেরও বেশি দ্বিতীয় শ্রেণির অফিসার রয়েছেন। প্রশাসনের এই কড়া মনোভাব স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, স্বচ্ছতা বজায় না রাখলে আগামী দিনে আরও বড় আইনি পদক্ষেপের মুখে পড়তে পারেন এই ‘গোপনকারী’ কর্মচারীরা।

Samrat Das
  • Samrat Das