উটের হাতেও এবার পাসপোর্ট! সৌদি আরবের এই অদ্ভুত সিদ্ধান্তে থমকে গেল গোটা বিশ্ব

সৌদি আরব থেকে এমন এক চাঞ্চল্যকর খবর সামনে এসেছে যা শুনে রীতিমতো অবাক বিশ্ববাসী। এবার কেবল মানুষ নয়, মরুভূমির জাহাজ উটের জন্যও অফিশিয়াল ‘পাসপোর্ট’ ইস্যু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি সরকার। সম্প্রতি দেশটির পরিবেশ, জল ও কৃষি মন্ত্রণালয় এই অভাবনীয় পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছে। এর মাধ্যমে দেশের কয়েক লক্ষ উটের জন্য সরকারি পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট প্রদান করা হবে, যা তাদের শনাক্তকরণ এবং ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করবে।
আরব উপদ্বীপের হাজার বছরের সংস্কৃতিতে উট এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ২০২১ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সৌদি আরবের পাথরে খোদাই করা উট ও ঘোড়ার প্রতিকৃতি অন্তত ৭,০০০ বছরের পুরনো হতে পারে। অর্থাৎ, আরব্য সভ্যতার বিকাশে এই প্রাণীর গুরুত্ব অপরিসীম। আধুনিক যুগেও সেই গুরুত্ব বজায় রাখতে এবং উট পালন শিল্পকে আরও সুসংগঠিত করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশে বর্তমানে প্রায় ২২ লক্ষ উট রয়েছে। কিন্তু এত বিশাল সংখ্যক প্রাণীর ব্যবস্থাপনার জন্য এতদিন কোনো কেন্দ্রীয় ডাটাবেস বা শনাক্তকরণ ব্যবস্থা ছিল না। পাসপোর্ট চালুর ফলে প্রতিটি উটের একটি নিজস্ব পরিচয় থাকবে। এর ফলে উটের ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন এবং মালিকানা সংক্রান্ত তথ্য রেকর্ড করা অনেক সহজ ও স্বচ্ছ হবে। এটি যেমন অবৈধ বাণিজ্য রোধ করবে, তেমনই মালিকদের আইনি অধিকারও নিশ্চিত করবে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা পাসপোর্টের ছবিতে দেখা গেছে, এটি একটি আকর্ষণীয় সবুজ রঙের পাসপোর্ট, যার ওপর সৌদি আরবের জাতীয় প্রতীকের সাথে একটি সোনালী উটের ছবি খোদাই করা আছে। এটি উটের জন্য একটি অফিশিয়াল ডকুমেন্ট হিসেবে কাজ করবে।
সৌদি আরবে উট কেবল একটি প্রাণী নয়, এটি মর্যাদা ও আভিজাত্যের প্রতীক। প্রতি বছর দেশটিতে বিশাল বাজেটের উট সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। যেখানে জয়ী উটের মালিকরা কোটি কোটি টাকা পুরস্কার পান। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রতিযোগিতায় ‘বোটক্স’ বা কৃত্রিমভাবে উটের সৌন্দর্য বাড়ানোর মতো কিছু জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি পাসপোর্ট ব্যবস্থা চালু হলে এই ধরনের জালিয়াতি এবং প্রসাধনী কারচুপি রোধ করা অনেক সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সৌদি আরবের এই পদক্ষেপটি বিশ্বজুড়ে পশু সম্পদ ব্যবস্থাপনার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।