ফ্রিজে জেঠিমার মৃতদেহ, ওদিকে বিয়ের পিঁড়িতে ভাইপো! দাসপুরের ঘটনায় শিউরে উঠল বাংলা

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাসপুর থানার চাঁইপাট বেলডাঙা গ্রামে এক অভাবনীয় ও হাড়হিম করা ঘটনার সাক্ষী থাকল এলাকাবাসী। একদিকে যখন বিয়ের সানাই বাজছে, ঠিক তখনই শোকের আবহে ঘরবন্দি এক নিথর দেহ। সোমবার দুপুরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে মৃত্যু হয় রিতা আলুর। সম্পর্কে তিনি মঙ্গলবার যার বিয়ে, সেই পাত্র সৌরেন আলুর জেঠিমা। কিন্তু শোকের ছায়ায় বিয়ে বাতিল করার বদলে এক অদ্ভুত সিদ্ধান্ত নিল পরিবার। জেঠিমার মৃতদেহ একটি ‘ফ্রিজার বক্স’-এ ভরে পাড়ার একটি ক্লাবে রেখে বর চললেন কনে আনতে।

সৌরেন আলুর বিয়ের দিনক্ষণ আগে থেকেই স্থির ছিল। সব আয়োজনও ছিল তুঙ্গে। কিন্তু সোমবারের এই আকস্মিক মৃত্যু সব ওলটপালট করে দেয়। পরিবারের দাবি, মৃত রিতা আলুর ৬ মেয়েই ভিন রাজ্যে থাকেন। তাঁরা না আসা পর্যন্ত সৎকার সম্ভব নয়। তাই বাধ্য হয়েই দেহ সংরক্ষণের জন্য ফ্রিজের ব্যবস্থা করা হয়। তবে ঘরে বিয়েবাড়ির ভিড় ও মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের কারণে মৃতদেহটি সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় একটি ক্লাব ঘরে।

এই খবর জানাজানি হতেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেশীদের অনেকেই হতবাক হয়ে গিয়েছেন এমন ঘটনায়। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, “আমরা একরাশ কষ্ট বুকে পাথর করে আনন্দ নয়, বরং কর্তব্যের টানেই বিয়ের অনুষ্ঠান সারছি। মেয়েরা পৌঁছলেই দাহ করা হবে।” এদিকে ক্লাবে মৃতদেহ রাখা নিয়ে শুরু হয়েছে আইনি জটিলতা। ক্লাবের সদস্যরা এর তীব্র বিরোধিতা করে জানিয়েছেন, “অনুষ্ঠান বাড়ির জন্য এভাবে ক্লাবে দেহ রাখা যায় না।” ইতিমধ্যে বিষয়টি পুলিশকেও জানানো হয়েছে। জেঠিমার দেহ যখন ক্লাব ঘরের অন্ধকার কোণে বরফে ঢাকা, তখন সানাই বাজিয়ে নতুন বউ নিয়ে ঘরে ফিরলেন সৌরেন। এই ঘটনা এখন গোটা জেলায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।