স্কুলের বন্ধ ঘরে কোটি কোটি টাকা! কাঁচরাপাড়ায় উদ্ধার ১.৭৭ কোটি, কাঠগড়ায় পুরপ্রধান

নেতা-মন্ত্রীদের অফিস বা বাড়ি নয়, এবার একেবারে স্কুলের ভেতরে মিলল টাকার পাহাড়! কাঁচরাপাড়ার ফোরম্যান কলোনির ‘হারনেট ইংলিশ মিডিয়াম’ স্কুলে পুলিশি অভিযানে উদ্ধার হলো ১ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা। এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
কীভাবে এল এই টাকা?
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বুধবার রাতে বীজপুর থানার পুলিশ ওই স্কুলে হানা দেয়। স্কুলের একটি তালাবন্ধ ঘর থেকে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ এই নগদ অর্থ। টাকা গোনার জন্য তিনটি মেশিন আনতে হয় এবং সকাল পর্যন্ত চলে গণনা। এত বিপুল পরিমাণ টাকা স্কুলের ভেতরে কেন রাখা হয়েছিল, তার কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি স্কুলের ক্যাশিয়ার অভিজিৎ নাথ, অভিক নাথ এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট সায়ন ঘোষ। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁদের আটক করেছে পুলিশ।
রাজনৈতিক উত্তাপ:
স্থানীয় বিধায়ক সুদীপ্ত দাস এবং ওই স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র ডক্টর অনির্বাণ গাঙ্গুলী সরাসরি অভিযোগের আঙুল তুলেছেন কাঁচরাপাড়া পৌরসভার পৌরপ্রধান তথা ওই স্কুলের প্রেসিডেন্ট কমল অধিকারীর দিকে। এলাকাবাসীর দাবি, এই টাকা মূলত তাঁরই। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া পাহারায় পুলিশ উদ্ধার হওয়া টাকা নিয়ে গেছে। এখন দেখার, তদন্তে আসল সত্য কী বেরিয়ে আসে।
মূল প্রতিবেদন ২: ধূপগুড়িতে ‘কাটমানি ফেরত’ আন্দোলনের ঝড়
নিজস্ব প্রতিবেদন, ধূপগুড়ি: সরকারি প্রকল্পের কাটমানি ফেরত দেওয়ার দাবিতে এবার অভিনব পথে প্রতিবাদ! জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ি ব্লকের ঝাড় আলতা ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে মাইকিং করে তৃণমূল নেতাদের বাড়ি ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দিলেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।
অভিযোগের সুর:
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, আবাসের ঘর থেকে শুরু করে ১০০ দিনের কাজ—প্রতিটি সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের থেকে মোটা অঙ্কের টাকা ‘কাটমানি’ নিয়েছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের একাংশ। এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবার রুখে দাঁড়িয়েছেন গ্রামবাসীরা। গত রাতে একটি ছোট গাড়িতে মাইক বেঁধে গোটা গ্রামজুড়ে প্রচার চালানো হয়।
কড়া হুঁশিয়ারি:
মাইকিংয়ের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, “যে সমস্ত তৃণমূল নেতা-কর্মী গরিব মানুষের রক্ত জল করা টাকা আত্মসাৎ করেছেন, তাঁরা দ্রুত তা ফেরত দিন। অন্যথায় সাধারণ মানুষকে নিয়ে তাঁদের বাড়ি ঘেরাও করে হিসাব বুঝে নেওয়া হবে।” তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগের আবহে এই ‘মাইকিং আন্দোলন’ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন শোরগোল ফেলে দিয়েছে।